Science and nature: জানেন মাসের পর মাস জল ছাড়াই মাটির নীচে কীভাবে বেঁচে থাকে শিং মাছ?

Fish survival: পুকুরের জল শুকিয়ে কাঠ, চারদিকে ফাটা মাটির। তার নিচেই এক ফোঁটা জল ছাড়া মাসের পর মাস দিব্যি বেঁচে থাকে শিং মাছ! শুধু তাই নয়, এরা ডাঙাতেও হাঁটতে পারে। কিন্তু কীভাবে সম্ভব এই অসাধ্য সাধন? শিং মাছের বেঁচে থাকার এই অবিশ্বাস্য রহস্য জানুন।

Science and nature: জানেন মাসের পর মাস জল ছাড়াই মাটির নীচে কীভাবে বেঁচে থাকে শিং মাছ?
জানুন কারণ

Oct 01, 2026 | 11:32 AM

চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদ। পুকুরের তলা ফেটে চৌচির। এক ফোঁটা জল নেই। দেখে মনে হবে, সেখানে প্রাণের কোনও অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। কিন্তু ওই ফাটা মাটির নিচেই দিব্যি লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত প্রাণ! এক-দু’মাস নয়, মাসের পর মাস জল ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে শিং মাছ। অবাক করা বিষয় হল, জল শুকিয়ে গেলে এরা ডাঙাতে দিব্যি হেঁটেও বেড়াতে পারে। কিন্তু কীভাবে এমন অসাধ্য সাধন করে এই মাছ? বিজ্ঞানীদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে এক অবাক করা রহস্য।

কীভাবে সম্ভব?

গল্পটা শুরু হয় গ্রীষ্মের শুরুতে। জলাশয় যখন শুকতে শুরু করে, তখন অদ্ভুত এক কৌশল কাজে লাগায় শিং মাছ। তারা কাদার নিচে গর্ত খুঁড়ে আশ্রয় নেয়। কখনও কখনও প্রায় এক হাত গভীরে ঢুকে যায়। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত স্বভাবের নাম দিয়েছেন ‘এস্টিভেশন’ বা গ্রীষ্মনিদ্রা। মাটির নিচে ঢুকে শরীরের সমস্ত কাজকর্ম প্রায় থামিয়ে দেয় এই মাছ। হৃৎস্পন্দন কমে যায়, বিপাক ধীর হয়ে আসে। বেঁচে থাকার শক্তি জোগায় শরীরে আগে থেকে জমে থাকা চর্বি। এভাবেই খাবার ছাড়া দিব্যি সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটিয়ে দেয় শিং মাছ।

মাছ মানেই তো জলের নিচে ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেওয়া। কিন্তু শিং মাছ সরাসরি বাতাস থেকেও শ্বাস নিতে পারে। তাদের মাথার নিচ থেকে লেজ পর্যন্ত একটি লম্বা নলাকার বায়ুথলি রয়েছে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘রেসপিরেটরি স্যাক’। তাই জলাশয়ে অক্সিজেনের অভাব হলে বা জল শুকিয়ে গেলেও এদের শ্বাস নিতে কোনও সমস্যা হয় না।

মাটির নিচে শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে এদের শরীরের চামড়াও এক জাদুর মতো কাজ করে। শিং মাছের গায়ে একটি পুরু আঠালো মিউকাসের আস্তরণ থাকে, যা শরীরের জলীয় অংশ ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্তের ভেতরের কিছু প্রোটিন কোষগুলোকে শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এই সময় কিডনি জলের অপচয় একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনে। শরীরে জমতে থাকা বর্জ্য পদার্থও তখন আর বিষাক্ত অ্যামোনিয়া থাকে না। বরং তুলনামূলক নিরাপদ ইউরিয়া হিসেবে জমা থাকে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল এদের হাঁটার ক্ষমতা। বুকের পাখনা মাটিতে গেঁথে সাপের মতো শরীর বাঁকিয়ে এরা ডাঙায় এগিয়ে যায়। প্রথম বৃষ্টি নামলেই শুকনো ডোবা থেকে হেঁটে পাশের পুকুরে পাড়ি দেয় এরা।

দক্ষিণ এশিয়ার নদী-নালায় এই জলের ওঠানামা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এমন রুক্ষ পরিবেশে শুধু জলের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা রীতিমতো কঠিন। বিবর্তনের নিয়মে যেসব মাছ বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেওয়ার কৌশল রপ্ত করেছে, তারাই টিকে গিয়েছে। শিং মাছ ঠিক তেমনই এক লড়াকু প্রাণ। একই গোত্রের মাগুর মাছের মধ্যেও বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার অনুরূপ যন্ত্র দেখা যায়। আত্মরক্ষার জন্য এদের পাখনার গোড়ায় একটি বিষাক্ত কাঁটা থাকে, যা মানুষের শরীরে বিঁধলে মারাত্মক জ্বালা করে।

কৃষকরা জমি চাষের সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ জ্যান্ত শিং মাছ বেরিয়ে আসতে দেখেছেন বহুবার। বছরের পর বছর ধরে গ্রামবাংলার মানুষ এই ঘটনার সাক্ষী। পরে বিজ্ঞান এর আসল কারণ ব্যাখ্যা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে শিং মাছের এই অবিশ্বাস্য টিকে থাকার ক্ষমতা বিজ্ঞানীদেরও অবাক করেছে। এদের প্রোটিন এবং এনজাইম নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। হয়তো আগামী দিনে এই গবেষণা থেকেই চরম পরিবেশে অন্যান্য প্রাণীদের টিকিয়ে রাখার নতুন কোনও দিশা পাওয়া যাবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us