ইঞ্জিনিয়ারিং-আইটি অতীত? ২০২৬-এ কেরিয়ারের বাজার মাতাবে ‘গ্রিন জবস’, জানুন খুঁটিনাটি
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'ফিউচার অফ জবস' সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৪ কোটি নতুন গ্রিন জব তৈরি হবে। বিশেষ করে ভারত এখন রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবীকরণযোগ্য শক্তির হাব হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে 'নেট জিরো' লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে গেলে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) সেক্টরে বিপুল কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন। শুধুমাত্র গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনেই ভারতে প্রায় ৬ লক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবেশ বাঁচিয়েই কি রোজকার করা সম্ভব? একসময় পরিবেশ রক্ষা মানেই ছিল স্রেফ গাছ লাগানো বা সচেতনতামূলক প্রচার। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং আর জলবায়ু পরিবর্তনের আবহে বিশ্বজুড়ে এখন একটাই মন্ত্র— ‘সাসটেইনেবিলিটি’। আর এই ধারণাই জন্ম দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ ‘গ্রিন জবস’-এর। আপনি কি জানেন, আগামী কয়েক বছরে প্রথাগত কর্পোরেট চাকরির চেয়ে পরিবেশ-বান্ধব পেশায় নিয়োগের হার প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে?
গবেষণা ও প্রমাণ কী বলছে?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ফিউচার অফ জবস’ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৪ কোটি নতুন গ্রিন জব তৈরি হবে। বিশেষ করে ভারত এখন রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবীকরণযোগ্য শক্তির হাব হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে গেলে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) সেক্টরে বিপুল কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন। শুধুমাত্র গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনেই ভারতে প্রায় ৬ লক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ?
সৌর ও বায়ুশক্তি: সোলার প্যানেল ডিজাইন থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ- এই সেক্টরে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্ট দুই ধরনের কর্মীরই চাহিদা তুঙ্গে।
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV): পেট্রোল-ডিজেলের দিন ফুরোচ্ছে। তাই ইভি ব্যাটারি স্পেশালিস্ট বা চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারদের কদর এখন আকাশছোঁয়া।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management): রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি এখন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে। সার্কুলার ইকোনমি স্পেশালিস্টদের চাহিদা এখন বড় বড় বহুজাতিক সংস্থায়।
সাসটেইনেবিলিটি কনসালট্যান্ট: বহু বড় কোম্পানিই এখন পরিবেশ বান্ধব ব্যবসাকেই বেছে নিচ্ছেন। তাই পরিবেশবিদ ও পরামর্শদাতাদের জন্য খুলে গিয়েছে কর্পোরেট অফিসের দরজা।
কেন এই পেশা আলাদা?
গ্রিন জব মানেই যে আপনাকে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে, তা নয়। আপনি যদি ডেটা সায়েন্টিস্ট হন, তবে জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন। আপনি যদি আইনজীবী হন, তবে পরিবেশ আইন নিয়ে কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ, আপনার পুরনো স্কিলকেই একটু ঝালিয়ে নিয়ে যোগ দিতে পারেন এই নতুন বিপ্লবে।
