
বিদেশি খাওয়া দাওয়া আর ডায়েটের চাপে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের ঠাকুমা-দিদিমাদের অনেক অসাধারণ সব রেসিপি। লাউ-এর খোসা বাটা, মান কচু বাটা, পটলের খোসার চচ্চরি, বরবটি বাটা আছে আরও অনেক কিছু। এখন সবজির যে সব অংশ আমরা ফেলে দিই, সেই সব অংশ দিয়েই অসাধারণ সব পদ রেঁধে ফেলতে পারতেন আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা। সময়ের অভাবে আজ সেই সব পদ অবলুপ্তির পথে। আপনারও কি ভাতের পাতে সেই সব পুরনো দিনের রান্না ভাল লাগে? তাহলে রইল তেমনই দুই বাটা রেসিপি।
লাউয়ের খোসা বাটা
উপকরণ –
লাউয়ের খোসা – ১টা মাঝারি সাইজের।
পোস্ত দানা – ১ টেবিল চামচ
গোটা সর্ষে – ১ ১/২ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা – ২-৩ টে
কালো জিরা – ১/২ চা চামচ
ধনে পাতা কুঁচি – ২ কাঁপ
নুন ও চিনি – স্বাদ মতো
তেল – পরিমাণ মতো
প্রণালী –
লাউয়ের খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। এবার মিক্সিতে লাউয়ের খোসা, ধনে পাতা, পোস্তদানা, সর্ষে, কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ভাল করে একটি মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন।
একটি কড়াই নিয়ে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে কালো জিরে ফোড়ন দিয়ে দিন। অল্প করে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ওই পেস্টটি দিয়ে দিন। এবার যতক্ষণ না কাঁচা ভাব যাচ্ছে, নাড়তে থাকুন। সঙ্গে চিনি আর নুন স্বাদ মতো দিয়ে দিন। শুকনো হয়ে কাঁচা ভাব চলে গেলে নামিয়ে নিয়ে উপর থেকে খানিকটা ধনে পাতা কুঁচি করে ছড়িয়ে দিন, তাহলেই হবে। তৈরি লাউয়ের খোসা বাটা।
বিট বাটা
উপকরণ –
বিট – ২টি
পোস্ত – ৪ চা চামচ
সর্ষের তেল – ৪ চা চামচ
গোটা সর্ষে – ১/২ চা চামচ
চিনি – ১/২ চা চামচ
নুন – স্বাদ মতো
কাঁচা লঙ্কা – স্বাদ মতো
প্রণালী –
প্রথমে বিট টুকরো করে কেটে ধুয়ে নিয়ে সেদ্ধ করে নিন। মিক্সিতে বিট, কাঁচা লঙ্কা, পোস্ত মিশিয়ে ভাল করে পেস্ট করে নিন।
গ্যাসে কড়াই বসিয়ে তাতে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে সর্ষে ফোড়ন দিয়ে দিন। তারপর আগে থেকে করে রাখা পেস্টটি দিয়ে দিন।
স্বাদ মতো নুন ও চিনি দিয়ে কষতে থাকুন। ভাল করে নাড়ান যাতে তলায় লেগে না যায়। জল শুকিয়ে কাচা ভাব কেটে গেলে নামিয়ে নিন। শীতের দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন বিট বাটা।