
বসন্তের হাওয়া এখন শুধুই প্রেম। গোলাপ দিবস থেকে চুমু দিবস কাটিয়ে এবার প্রেম দিবস, মানে ভ্যালেন্টাইনস ডে। অনেকেই মনে করেন, প্রেমে পড়া মানেই নাকি তাঁর পিছু পিছু চলে আসে, নানা টেনশন, নানা আতঙ্ক। অনেকে তো ব্রেকআপের ভয়েই প্রেমে পড়েন না। প্রেমের ইঙ্গিত পেলেই, তাঁদের মনে একটাই গান বেজে ওঠে, প্রেমে পড়া বারণ! কিন্তু প্রেম মানেই কি শুধু টেনশন? কেন হয় এমন ভীতি? নতুন প্রজন্মের জন্য রইল প্রেমপাঠ। জেনে নিন, মনোবিদ রিমঝিম রায় কী বলছেন।
মনোবিদ রিমঝিম রায়ের মতে, মানসিক দিক থেকে একটা সম্পর্ক তৈরি হলে, তার পরে আসে শারীরিক সম্পর্ক। যখন কোনও মানুষ সম্পর্কে থাকেন, তখন দুজনের মধ্যে একটা অধিকার বোধ জন্মায়। সেই অধিকার বোধ থেকেই একটা নিজের সেলফ বা ইগো ইনভেস্ট হচ্ছে। তার থেকেই পজেশিভ বিষয়টা চলে আসে। রিলেশনশিপে প্রথমেই আসে ফ্রেন্ডশিপ, মানসিক একটা যোগাযোগ। একটা মিচ্যুয়াল রেসপেক্ট আসে। দুজনের মধ্যে ভালোবাসা আসে। সেক্সুয়ালিটি আসে। এসব অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়েই একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। সেখান থেকেই একটা শারীরিক সান্নিধ্য পাওয়ার ঝোঁক বা ইচ্ছে তৈরি হয়। এখানে শরীরের কিছু হরমোনের রোলও থাকে। তবে সম্পর্কে তাড়াহুড়ো নয়। তা যৌনতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ইমপালশিভ হওয়া একেবারেই উচিত নয়। বরং মানসিক মেলবন্ধনকেই বেশিমাত্রায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত, সম্পর্কের ভিত তৈরি করার জন্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পুরো বিষয়টাতেই একটা ব্যালেন্স থাকা দরকার। একটা বেশি, আরেকটা কম হলেই সম্পর্ক মুশকিলে পড়তে পারে। তাই কোনও কিছুতেই তাড়াহুড়ো ভালো নয়। তা বন্ধুত্ব হোক বা সম্পর্ক। সময় নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।
প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য রইল আরও কিছু স্পেশাল টিপস–
যাঁরা প্রেমে রয়েছেন–
প্রথমেই বুঝে নিন, প্রেম মানেই প্রচুর জনসংখ্য়ার মধ্যে আপনার জন্য কেউ একজন স্পেশাল রয়েছে, যে আপনাকে ভালোবাসে, আপনাকে কদর করে। তাই সেই মানুষটিকে আপনিও কদর করুন। দেখবেন, যে কোনও সম্পর্কের শুরুটা যদি এমন ভাবনা দিয়ে হয়, তাহলেই জীবন চলবে সঠিক ছন্দে।
বিশ্বাস করুন। যে কোনও সম্পর্কের ভিতই হল বিশ্বাস। দুজনের সম্পর্কের মধ্যে যদি বিশ্বাস নামক স্টা থাকে, তাহলেই সম্পর্ক অটুট থাকবে। তাই অযথা, সন্দেহ করে সম্পর্ক খারাপ না করাই ভালো।
কখনই সঙ্গীর ফোন চেক করবেন না। এমনকী, সোশাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ডও চাইবেন না। আপনারা দুজনে প্রেমে রয়েছেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সঙ্গীর কোনও প্রাইভেসি থাকবে না। দুজনেই দুজনের প্রাইভেসিকে সম্মান করুন। দেখবেন, এতে সম্পর্ক সঠিক পথে এগোবে।
সম্পর্কের মধ্য়ে ঝগড়া হতেই পারে, তার মানে দুম করে ব্রেকআপ নয়। যদি সত্য়ি ভালোবাসেন, তাহলে আলোচনা করুন দুজনে।
একটা সম্পর্কে সম্মান অত্যন্ত জরুরি। তাই এমন কোনও আচরণ বা এমন কোনও কথা বলবেন না, যাতে অসম্মান হয় সঙ্গীর।
স্পেস দিন সম্পর্কে। আজকালের দ্রুত জীবনে, কাজের চাপে সবাই নাজেহাল। তাই একটু নিজের মতো থাকার প্রয়োজন সবার। তাই সবসময় সঙ্গীর নেটওয়ার্ক না হয়ে, বরং একটু নিজের মতো থাকতে দিন। কথায় আছে না, বালি বেশি মুঠো করে ধরলে, সেই বালি ঝরে পড়ে। তাই সম্পর্ককেও জোর করে মুঠো বন্দি করতে চাইবেন না।
প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে প্রেমে ভয় পেলে–
সদ্য প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়েছেন? তার পর থেকেই প্রেমে ভীতি? এরকম অবস্থা অনেকেরই। বিশেষজ্ঞরা তাই প্রথমেই বলছে, একবার ব্রেকআপ হলেই, যে বার বার হবে, তা ভেবে কাজ নেই। বরং নিজেকে সময় দিন। নিজের ভিতরের ক্ষত ভরার বন্দোবস্ত নিজেকেই করতে হবে। তবে সময় নিন। বন্ধুত্ব করুন আগে। তার পর অনুভূতি প্রেমে পৌঁছলে এগিয়ে যান। প্রেম কোনও অঙ্ক কষা নয়। তাই ক্যালকুলেটিভ না হয়ে, শুধুই প্রেমে ভেসে থাকুন। আর মন খুলে প্রেম করুন।