
সকালে অ্যালার্ম বাজল। কিন্তু বিছানা ছেড়ে ওঠার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। উলটে মাথাটা যেন ভীষণ ভারী হয়ে আছে। সকাল সকালই মেজাজ একেবারে খিটখিটে। অফিসে গিয়েও কাজে মন বসছে না। এমনটা কি রোজই ঘটছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে বুঝতে হবে ঘুমের সমস্যা (Sleep problems) বড়সড় আকার নিচ্ছে। রোজকার কিছু ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই কিন্তু এই বিপদের কারণ।
কেন এমনটা ঘটে?
শারদাকেয়ারের (ShardaCare) নিউরোলজি বিভাগের হেড এবং সিনিয়র ডিরেক্টর, ডক্টর অতমপ্রীত সিং একটি পরিষ্কার ধারণা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রাই এর প্রধান কারণ। কাজের চাপে দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া, রাত জেগে মোবাইল ঘাঁটা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, এগুলো এখন জলভাত। আর প্রতিদিন আলাদা আলাদা সময়ে ঘুমোনোর অভ্যাসই হল আসল কালপ্রিট। এর ফলে শরীর এবং মস্তিষ্ক একেবারেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। ঠিক সেই কারণেই পরের দিন সকাল থেকে সারা শরীর জুড়ে চরম ক্লান্তি আর বিরক্তি কাজ করে।
বেশি ঘুমালেই কি সমাধান?
অনেকেই ভাবেন, ছুটির দিনে অনেকটা বেশি ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলেই বুঝি শরীর ভালো থাকে। কিন্তু এটি একটি মস্ত বড় ভুল ধারণা। ভালো ঘুম মানে শুধু বেশিক্ষণ ঘুমানো নয়। ঘুমটা একটানা এবং শান্তির হওয়া ভীষণ জরুরি। সারা দিনের ক্লান্তির পর ঘুমের সময়ই মস্তিষ্ক নিজেকে সারিয়ে তোলে। তাই দিনের পর দিন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে পরের দিন ক্লান্তি তো আসেই। এমনকী, দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাও কমে যায়।
বিপদের সংকেত বুঝবেন কীভাবে?
সকালে মাথা যন্ত্রণার সঙ্গে যদি রাতে প্রচণ্ড নাক ডাকার সমস্যা থাকে, তবে সাবধান হতে হবে। ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা বারবার ঘুম ভেঙে গেলে তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও যদি সারা দিন ক্লান্তি থাকে, তবে তা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো বড় কোনও সমস্যার সংকেত হতে পারে। এই ধরনের লক্ষণ কখনওই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
সুস্থ থাকার সহজ উপায়
এই নিয়মগুলো মেনে চলার পরেও যদি মাথা যন্ত্রণা বা মনঃসংযোগের অভাব না মেটে, তবে ফেলে না রেখে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার।