
ওজন কমানোর একটি সহজ ও বিনামূল্যের উপায় হল হাঁটা। বয়স বা ফিটনেস যাই হোক না কেন, নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সবথেকে বড় সুবিধে হল, এটি লো-ইম্প্যাক্ট ব্যায়াম অর্থাৎ এটি করলে হাঁটুর মতো জয়েন্টের উপর তুলনামূলক চাপ কম পড়ে ও দীর্ঘ সময় ধরে এক্সারসাইজ করা যায়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও হাঁটা কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত হাঁটলে ক্যালোরি খরচ হয়, শরীরে হজমক্রিয়া সচল থাকে ও পেশির টোন উন্নত হয়। হাঁটার গতি ও ব্যক্তির ওজনের ওপর নির্ভর করে ঘন্টায় প্রায় ২০০-৪০০ ক্যালোরি পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
সপ্তাহে ১ কেজি ওজন কমাতে কতটা হাঁটা উচিৎ?
সাধারণ হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৭৭০০ ক্যালোরি কমলে প্রায় ১ কেজি ওজন কমতে পারে। অর্থাৎ, ১ সপ্তাহে ১ কেজি কমানোর লক্ষ্য থাকলে প্রতিদিন প্রায় ১১০০ ক্যালোরি কমানো প্রয়োজন। তবে হাঁটার মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা খুব কঠিন। গড়ে প্রতি ১০০০ ধাপে ৪০-৫০ ক্যালোরি খরচ হতে পারে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ২২০০০-২৭০০০ ধাপ হাঁটতে হতে পারে। তাই এই পরিমাণ হাঁটা সবার পক্ষে হাঁটা সম্ভব নয়। প্রতিদিন ২২-২৭ হাজার ধাপ হাঁটলে পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি হতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
প্রতিদিন খাবার থেকে ৫০০ ক্যালোরি কমাতে পারলে শুধুমাত্র হাঁটার ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে দিনে ১২-১৫ হাজার ধাপ হাঁটলেই হবে। সপ্তাহে ১ কেজি কমানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ওজন কমানো বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। এর ফলে ১০-১৫ দিনে ১ কেজি কমতে পারে।
হাঁটার ফল পেতে টিপস –
১- স্বাভাবিক হাঁটুর বদলে মাঝে মাঝে দ্রুত গতিতে হাঁটুন।
২- সম্ভব হলে উঁচু পথ বা ইনক্লাইনে হাঁটুন।
৩- প্রথম থেকেই ১০ হাজার স্টেপ হাঁটবেন না। আস্তে আস্তে স্টেপ বাড়ান।
৪- প্রতি সপ্তাহে দৈনিক ধাপের সংখ্যা ১০% বাড়ান।
৫- সপ্তাহে ১ দিন বিশ্রাম নিন।
৬- প্রত্যেকদিন ৭-৯ ঘন্টা ঘুমোন।
৭- দীর্ঘ সময় হাঁটার আগে, মাঝে ও পড়ে পর্যাপ্ত জলপান করুন।