
কিবোর্ড (Keyboard) সারাদিন খটাখট বাজলেও, একেবারে ওপরের সারিতে থাকা F1 থেকে F12 এই সব বোতামগুলোর কাজ জানেন? অফিসে হোক বা বাড়িতে, রোজ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে প্রচুর কাজ করতে হয়। কিন্তু ফাংশন কি নামের এই বোতামগুলোর আসল কাজ হয়তো অনেকেরই অজানা। এগুলো ঠিকমতো ব্যবহার করতে জানলে কম্পিউটারের কাজ শুধু দ্রুতই হবে না, খাটুনিও কমবে অনেকটাই। বারবার মাউসে হাত দেওয়ার বিরক্তি কাটাতে জেনে নিন, কোন বোতামের কী কাজ।
F1: কাজ করতে করতে হঠাৎ আটকে গিয়েছেন? কিছু বুঝতে না পারলে ঘাবড়ানোর দরকার নেই। শুধু F1 চাপলেই সরাসরি হেল্প (Help) মেনু খুলে যাবে।
F2: বারবার মাউস দিয়ে ফাইলের নাম বদলাতে বিরক্ত লাগে? যে ফোল্ডারের নাম বদলাতে চান, সেটি সিলেক্ট করে F2 চাপুন। সোজা রিনেম (Rename) করার অপশন চলে আসবে।
F3: কম্পিউটারের ভেতরে চটজলদি কিছু খুঁজতে হলে F3 বোতামটি চাপলেই সরাসরি সার্চ বক্স খুলে যায়।
F4: স্ক্রিনে খোলা থাকা যে কোনও প্রোগ্রাম এক ধাক্কায় বন্ধ করতে চান? Alt বোতামের সঙ্গে F4 একসঙ্গে চেপে দেখুন, চোখের পলকে উইন্ডো বন্ধ হয়ে যাবে।
F5: ফাংশন কি-গুলির মধ্যে এর ব্যবহার সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। ইন্টারনেট ব্রাউজার রিফ্রেশ (Refresh) করতে বারবার মাউসে ক্লিক না করে শুধু F5 চাপলেই কাজ হয়ে যায়।
F6: ইন্টারনেটে কিছু খোঁজার সময় ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে সরাসরি যেতে চাইলে মাউস ছাড়াই F6 বোতামটি সেই কাজ করে দেবে।
F7: মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে টাইপ করার সময় বানান ভুল হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চিন্তা? F7 চাপলেই স্পেল চেক (Spell check) চালু হয়ে যাবে।
F8: কম্পিউটার চালুর সময় অপারেটিং সিস্টেমে কোনও সমস্যা দেখা দিলে F8 বোতামটি চেপে সরাসরি সেফ মোড (Safe mode) চালু করা যায়।
F9: যাঁরা মাইক্রোসফট আউটলুক ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ কাজের। এর সাহায্যে খুব সহজেই ইমেল পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়।
F10: ইন্টারনেট ব্রাউজার বা অন্য কোনও সফটওয়্যারের লুকনো মেনু বার খুলতে এটি কাজে লাগে। আরও একটি দারুণ ফিচার হল, Shift বোতামের সঙ্গে F10 একসঙ্গে চাপলে ঠিক মাউসের রাইট-ক্লিকের মতোই কাজ হয়। হঠাৎ মাউস বিগড়ে গেলে এটি খুব দরকারি।
F11: ইন্টারনেটে কোনও ভিডিয়ো দেখার সময় বড় স্ক্রিন চাইলে F11 চাপলেই ফুল স্ক্রিন (Full screen) মোড চালু হয়ে যাবে।
F12: মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে পুরনো কোনও ফাইল নতুন করে সেভ বা সেভ অ্যাজ (Save As) করতে চাইলে সরাসরি এই বোতামটি ব্যবহার করা হয়।
রোজকার জীবনে কীবোর্ডের এই স্মার্ট শর্টকাটগুলো জানা থাকলে ঘণ্টার কাজ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব। আজ থেকেই কাজের সময় এই বোতামগুলোর সুবিধা নেওয়া শুরু করে দিন।