
ক্যানসার নামটা শুনলেই আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর স্তন ক্যানসার হলে তো কথাই নেই। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্ক নয়, প্রথম থেকেই এর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। স্তনে গাঁট তৈরি হওয়াই যে এই রোগের একমাত্র লক্ষণ, এমনটা নয়। স্তনের আকার বা ত্বকের পরিবর্তন, নিপল থেকে অস্বাভাবিক তরল নির্গত হওয়া কিংবা বগলের কাছে ফোলা ভাবও সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন ধরন, তার লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্তন ক্যানসার কী?
স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্তন ক্যানসার হতে পারে। সাধারণত স্তনের দুধবাহী নালি অথবা দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে এই রোগের সূত্রপাত হয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত না হলে ক্যানসার আশপাশের টিস্যু, লসিকাগ্রন্থি এবং শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্তন ক্যানসারের প্রধান ধরনগুলি কী কী?
স্তন ক্যানসারের কয়েকটি পরিচিত ধরন রয়েছে।
ডাক্টাল কার্সিনোমা ইন সিটু (DCIS): এই ধরনের ক্যানসার স্তনের দুধবাহী নালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে না।
ইনভেসিভ ডাক্টাল কার্সিনোমা (IDC): দুধবাহী নালি থেকে শুরু হয়ে আশপাশের স্তন টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি স্তন ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ ধরন।
ইনভেসিভ লোবিউলার কার্সিনোমা (ILC): স্তনের দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি থেকে এই ক্যানসারের সূত্রপাত হয়। পরে তা অন্য টিস্যুতেও ছড়াতে পারে।
ইনফ্ল্যামেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার: এই বিরল ধরনের ক্যানসারে স্তন লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা এবং ত্বকে পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট গাঁট নাও থাকতে পারে।
ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার: এটি স্তন ক্যানসারের একটি বিশেষ ধরন, যেখানে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও HER2—এই তিনটি নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। এর চিকিৎসার পদ্ধতিও অন্যান্য ধরনের ক্যানসারের থেকে আলাদা হতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?
স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে সব সময় ব্যথা বা স্পষ্ট গাঁট দেখা যায় না। তাই শরীরে নতুন কোনও পরিবর্তন নজরে এলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
স্তন বা বগলের কাছে নতুন গাঁট তৈরি হওয়া।
স্তনের আকার বা আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া, লাল হওয়া অথবা কমলালেবুর খোসার মতো দেখানো।
নিপল ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া বা তার চেহারায় পরিবর্তন।
নিপল থেকে রক্তমিশ্রিত বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া।
স্তন বা বগলের কাছে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব।
এই লক্ষণগুলি থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে কোনও পরিবর্তন নতুন করে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গও থাকে না।