
রবিবার সকাল মানেই বাঙালির পাতে গরম ফুলকো লুচি। আর সেই লুচির যোগ্য সঙ্গী যদি হয় লাল-হলুদ রসে টইটুম্বুর বোঁদে, তবে তো আর কোনও কথাই নেই! পুজোর প্রসাদ হোক বা পাড়ার মোড়ের মিষ্টির দোকানে সকালের ভিড়, এই বোঁদে ছাড়া বাঙালির মিষ্টি-প্রেম একেবারে অসম্পূর্ণ। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই অতি পরিচিত, প্রাণের চেয়ে প্রিয় মিষ্টিটিকে সাহেবরা কী বলে ডাকে? মানে এর ইংরেজি নামটা ঠিক কী? সেই গালভরা নাম শুনলে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য!
কীভাবে তৈরি হয় এই রসে ভরা বোঁদে?
পদ্ধতিটি কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। এর আসল কারিগর হল বেসন। প্রথমে জল দিয়ে বেসনের একটি মসৃণ গোলা তৈরি করা হয়। এরপর কড়াইতে গরম করা হয় তেল বা ঘি। এবার একটি ছানতা বা ঝাঁঝরি হাতার ওপর ওই বেসনের গোলা ঢেলে দেওয়া হয়। গরম তেলের মধ্যে সেই গোলা ছোট ছোট বিন্দুর মতো ঝরে পড়ে। কড়া করে ভেজে তুলে নেওয়ার পর সেই মুচমুচে বিন্দুগুলোকে ফেলা হয় ঘন চিনির রসে। রসে ডুবে সেই ছোট ছোট দানাগুলো ফুলে ঢোল হয়ে ওঠে। আর এভাবেই তৈরি হয় বাঙালির চির আদরের বোঁদে।
তেলের মধ্যে ঝরে পড়া এই ছোট ছোট জলের ফোঁটা বা বিন্দুর মতো আকারের জন্যই বিদেশিরা এর এমন অদ্ভুত নামকরণ করেছেন। রসগোল্লা বা সিঙারার মতো বোঁদের সরাসরি কোনও আক্ষরিক ইংরেজি প্রতিশব্দ নেই। তবে বিদেশিদের বোঝানোর জন্য বা আন্তর্জাতিক মেনুতে একে বলা হয় ‘Sweetened gram flour pearls’ (সুইটেন্ড গ্রাম ফ্লাওয়ার পার্লস) অথবা ‘Sweetened chickpea flour droplets’ (সুইটেন্ড চিকপি ফ্লাওয়ার ড্রপলেটস)।
শুনতে বেশ খটমটে আর রাজকীয় লাগছে তো? ওই যে বেসনের দানাগুলো রসে ডুবে টলটলে হয়ে ওঠে, তাকেই বিদেশিরা ভালোবেসে ‘মুক্তো’ (Pearls) বা ‘জলের ফোঁটা’ (Droplets)-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাড়ার ওই চেনা দোকানের সাধারণ বোঁদে বিদেশে গিয়ে একেবারে ‘মিষ্টি বেসনের মুক্তো’ হয়ে গিয়েছে! ব্যাপারখানা সত্যিই বেশ মজার। আসলে বিদেশি ভাষায় দেশীয় খাবারের নামগুলো মাঝে মাঝেই এমন আভিজাত্যে মোড়া আকার ধারণ করে। তবে নাম যাই হোক না কেন, ধোঁয়া ওঠা লুচির সঙ্গে বোঁদের যুগলবন্দি বাঙালির কাছে চিরকালই সুপারহিট। তাই পরের বার বোঁদে খাওয়ার সময় এই গালভরা ইংরেজি নামটা মাথায় এলে মুখে একটু হাসি ফুটবেই!