
ভাবুন তো, সকালে ১০০ শতাংশ চার্জ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোলেন, আর দুপুর গড়াতে না গড়াতেই ফোনে ‘লো ব্যাটারি’ অ্যালার্ট! বিরক্ত লাগে না? নতুন ফোন কেনার সময় অনেকেই ৫০০০ বা ৬০০০ এমএএইচ (mAh) লেখা দেখলেই নিশ্চিন্ত হন। আপনিও হয়তো ভাবেন, এবার বুঝি ফোন আর বারবার চার্জে বসাতে হবে না! কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অন্য চিত্র। আসলে ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আর ব্যাটারি লাইফ, এই দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। ব্যাটারির গায়ে লেখা বড় সংখ্যা মানেই যে তা সারাদিন চলবে, এমনটা একেবারেই নয়।
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি আর ব্যাটারি লাইফের মধ্যে পার্থক্য কী?
ধরুন, বাড়ির ছাদে একটা বেশ বড় জলের ট্যাঙ্ক বসানো রয়েছে। এই ট্যাঙ্কটা হল ফোনের ‘ব্যাটারি ক্যাপাসিটি’ (Battery Capacity)। অর্থাৎ, ব্যাটারির ভেতরে সর্বাধিক কতটা চার্জ জমা থাকতে পারে। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এটি মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার বা এমএএইচ (mAh) দিয়ে মাপা হয়। ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ওয়াট আওয়ার (Wh)।
অন্যদিকে, ট্যাঙ্কের জল আপনি ঠিক কতক্ষণ ধরে খরচ করছেন, সেটাই হল ‘ব্যাটারি লাইফ’ (Battery Life)। আপনার ফোনের ব্যাটারি অনেক বড় হতে পারে, কিন্তু আপনি যদি সারাদিন হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলেন বা টানা ভিডিয়ো দেখেন, তবে চার্জ তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে। আবার খেয়াল করে দেখবেন, কড়া রোদে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে গরমে ব্যাটারি খুব দ্রুত কমতে থাকে। ডিভাইসের স্ক্রিন সাইজ ও প্রসেসর কতটা উন্নত, তার ওপরেও ব্যাটারি লাইফ অনেকটা নির্ভর করে।
পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিয়ে কী কী ভুল ধারণা থাকে?
অনেকেই মনে করেন, আইফোনের (iPhone) ব্যাটারি ৪২৮৮ এমএএইচ হলে, ১০০০০ এমএএইচ পাওয়ার ব্যাঙ্ক দিয়ে অন্তত দু’বার ফুল চার্জ করা যাবে। খাতায়-কলমে এমনটা মনে হলেও বাস্তবে তা হয় না। কারণ, পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে ফোনে চার্জ যাওয়ার সময় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শক্তি তাপ হিসেবে নষ্ট হয়ে যায়। ফাস্ট চার্জিং বা ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সময় এই অপচয় আরও বেশি হয়।
নতুন ফোন যেমন চার্জ ধরে রাখে, পুরনো হলে তা আর পারে না। কারণ, সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির ‘স্বাস্থ্য’ কমতে থাকে। ফোন ১০০ শতাংশ থেকে শূন্যতে নামানো হলে একটা ‘চার্জ সাইকেল’ সম্পূর্ণ হয়। গুগল পিক্সেল (Google Pixel)-এর মতো সংস্থাগুলির দাবি, ১০০০ বার চার্জ সাইকেলের পর ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ, রোজ ফুল চার্জ দিলে আড়াই বছর পর নতুন ব্যাটারি লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কীভাবে ব্যাটারি ভালো রাখবেন?
ফোন কখনও পুরোপুরি শূন্য করা উচিত নয়, আবার ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়াও ঠিক নয়। ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখা সবচেয়ে ভালো। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা জরুরি। সেটিংসে গিয়ে ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের নীচে দেখলে বুঝতে হবে, এবার ব্যাটারি বদলানোর সময় এসেছে।
ভবিষ্যতে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি বাজারে আসছে, যা আকারে ছোট হলেও অনেক বেশি চার্জ ধরে রাখবে। তবে সেই নতুন প্রযুক্তি হাতে আসার আগে পর্যন্ত, এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মাথায় রাখলে ফোনটি অনেক দিন আপনার সঙ্গে থাকবে। আর মাঝপথে হঠাৎ চার্জ শেষ হওয়ার দুশ্চিন্তাও একদম দূর হবে।