কাঁচকলা না পাকা কলা, ওজন কমাতেই বা কে বেশি সাহায্য করে?

পুষ্টিবিদদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, কোন কলা খাবেন তা নির্ভর করা উচিত ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার উপর। অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ গ্রহণ বাড়াতে চাইলে কাঁচকলা উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, নরম, সহজে খাওয়া যায় এমন ফল এবং দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে পাকা কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

কাঁচকলা না পাকা কলা, ওজন কমাতেই বা কে বেশি সাহায্য করে?
কাঁচকলা না পাকা কলা, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী? Image Credit source: Getty Images

Oct 24, 2026 | 9:15 PM

কলা অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি ফল। তবে কাঁচকলা ও পাকা কলার মধ্যে কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষত হজমের সমস্যা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কলার পরিপক্বতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে দু’ধরনের কলাতেই রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং খাদ্যতন্তু। তবে কলা যত পাকতে থাকে, তার মধ্যে থাকা শ্বেতসারের একটি বড় অংশ সরল শর্করায় পরিণত হয়। ফলে স্বাদ, গঠন এবং হজমের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসে।

কাঁচকলায় বেশি থাকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পাকা কলা নরম ও মিষ্টি হওয়ায় সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে।

হজমের জন্য কোন কলা বেশি উপকারী?

কাঁচকলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর মধ্যে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। সাধারণ শ্বেতসারের মতো এই উপাদানটি ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না। এর কিছু অংশ বৃহদন্ত্রে পৌঁছে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় বুটিরেটের মতো শর্ট-চেন ফ্যাটি অ্যাসিড, যা বৃহদন্ত্রের কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া কাঁচকলার খাদ্যতন্তু মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কারও কারও গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা অস্বস্তি হতে পারে।

অন্যদিকে, কলা পাকলে তার শ্বেতসারের একটি বড় অংশ শর্করায় পরিণত হয়। ফলে কলা নরম হয়ে যায় এবং অনেকের পক্ষে তা হজম করা তুলনামূলক সহজ হয়।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনটি খাবেন?

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাঁচকলা কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। এতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কার্বোহাইড্রেট হজমের গতি ধীর করতে পারে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। পাকা কলায় সহজে হজমযোগ্য শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় কিছু ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে পারে।

তবে পাকা কলা মানেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর, এমন ধারণা ঠিক নয়। কতটা কলা খাওয়া হচ্ছে, কলাটি কতটা পেকেছে এবং তার সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেও রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করে।

ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। কলার সঙ্গে চিনি না মিশিয়ে টক দই বা অল্প বাদাম খেলে খাবারে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণও বাড়ানো যায়।

ওজন কমাতে কাঁচকলা না পাকা কলা?

ওজন কমানোর চেষ্টা করলে কাঁচকলা উপকারী বিকল্প হতে পারে। এর রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যতন্তু দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অপ্রয়োজনে খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

তবে পাকা কলাকেও ওজন কমানোর ডায়েট থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকলেও রয়েছে খাদ্যতন্তু ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা মেটাতেও পাকা কলা ভালো বিকল্প হতে পারে।

ওজন বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে শুধু কলার ধরন নয়, সারাদিনে মোট কত ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছে, শারীরিক পরিশ্রম কতটা হচ্ছে এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস কেমন, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে প্রতিদিন কোন কলা খাবেন?

পুষ্টিবিদদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, কোন কলা খাবেন তা নির্ভর করা উচিত ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার উপর। অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ গ্রহণ বাড়াতে চাইলে কাঁচকলা উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, নরম, সহজে খাওয়া যায় এমন ফল এবং দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে পাকা কলা বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, কাঁচকলা ও পাকা কলা—দুটিই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কোনও একটি কলাকে সবার জন্য সেরা বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়াই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us