
রোজ এক রকমের খাবার বা রান্না কারওই ভাল লাগে না। তাছাড়া খাবারের পাতে টক-ঝাল-মিষ্টি, সবই রাখতে হয়। কিন্তু তেতো খাবার সবাই ভালবাসে না। পাতে তেতো খাবার দেখে অনেকেরই ‘মুড অফ’ হয়ে যায়। কিন্তু রোগের হাত থেকে বাঁচতে গেলে তেতো খাবার খেতেই হবে। বিশেষত, এই বসন্তে পক্স, জ্বর, সর্দির হাত থেকে বাঁচতে গেলে তেতো খাবার পাতে রাখতে হবে।
তিক্ত স্বাদের খাবার স্যালিভা ও পেটে অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এতে খাবার থেকে পুষ্টি শোষণও এবং খবার হজমে সহায়তা হয়। পাশাপাশি এই ধরনের খাবার শারীরিক প্রদাহ কমায়। মেটাবলিজম ও ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে তেতো স্বাদের খাবার খাওয়া দরকার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোন-কোন তেতো স্বাদের খাবার খাবেন, রইল টিপস।
উচ্চে ও করলা: বাজারে সহজেই দেখা মেলে উচ্চে ও করলার। এই সবজি অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু এই খাবারে স্বাস্থ্যকর ফাইটোকেমিক্যাল ও ফ্ল্যাভনয়েড রয়েছে। এসব উপাদান ক্যানসারের কোষকে বৃদ্ধি হতে দেয় না। আর এই সবজি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের কাছে উচ্চে-করলা ওষুধের মতো কাজ করে।
নিম পাতা: কচি নিম পাতা ভাজা, গরম ভাতের সঙ্গে খেতে মন্দ লাগে না। আর এই মরশুমে যত বেশি নিম পাতা খাবেন, আপনার জন্যই উপকারী। নিম পাতার মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। নিম পাতা খেলে দেহে ইমিউনিটি বাড়ে এবং ছোট-বড় কোনও রোগ ধারে কাছে ঘেঁষে না। এছাড়া নিম পাতা খেলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। এতে পেট ও ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সজনে ফুল: বসন্তের আবহে চারদিকে ফুলের মেলা। এরই মধ্যে পাতে রাখুন সজনে ফুলকে। শুধুমাত্র বছরের এই সময় সজনে ফুল পাওয়া যায়। বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেলে ভরপুর এই ফুল। মরশুমি জ্বর-সর্দি, পক্সের মতো রোগের হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে সজনে ফুল। ইমিউনিটি বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি হাড়কে মজবুত করে সজনে ফুল। তাই এই মরশুমে সজনে ফুল ভাজা কিংবা বড়া অবশ্যই খান।