
খাবার পাতে স্যালাড হোক বা কড়াইতে গরম মশলাদার রান্না, পেঁয়াজ (Onion) ছাড়া সব অসম্পূর্ণ। কিন্তু এই সবজির একটা বদভ্যাস রয়েছে। সে নিজে কাটে, আর রাঁধুনিকে হাউহাউ করে কাঁদায়! এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি, এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। দেখতে এমন নিরীহ গোলগাল, অথচ কাটতে গেলেই চোখে রীতিমতো গঙ্গা-যমুনা বয়ে যায়। কিন্তু কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, এমনটা কেন হয়? এর পিছনে কিন্তু চমৎকার একটা বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই সবজির ভিতরে এক দারুণ কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি রয়েছে। এর প্রতিটি কোষে প্রচুর পরিমাণে সালফার যৌগ আর বেশ কিছু এনজাইম মজুত থাকে। সাধারণ অবস্থায় এরা চুপচাপ আলাদা বসে থাকে। কিন্তু যখনই ছুরি দিয়ে কোপ মারা হয়, তখন কোষগুলি ভেঙে যায়। আর তখনই এই উপাদানগুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। ব্যস, শুরু হয় রাসায়নিক বিক্রিয়া! তৈরি হয় ‘ল্যাক্রিমেটরি ফ্যাক্টর’ (Lachrymatory factor) নামের এক মারাত্মক ঝাঁঝালো গ্যাস। মানুষের চোখ এমনিতেই খুব সংবেদনশীল। এই গ্যাস চোখের সংস্পর্শে আসা মাত্রই চোখ তাকে শত্রু বা ক্ষতিকর পদার্থ হিসেবে ধরে নেয়। তখন চোখকে রক্ষা করতে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি থেকে জল বের হতে শুরু করে। সোজা কথায়, চোখের জলের সাহায্যে এই ঝাঁঝালো গ্যাস ধুয়ে বের করে দেওয়াই হল চোখের প্রধান কাজ।
ভাবছেন একটা সবজির এত রাগ কেন? আসলে এটা হল তার প্রাকৃতিক আত্মরক্ষার কৌশল। প্রকৃতি তাকে এই বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে পাঠিয়েছে। যাতে মাঠেঘাটে পোকামাকড় বা পশুরা তাকে মাটি থেকে তুলে গপগপ করে খেয়ে নষ্ট করতে না পারে। এই ঝাঁঝালো গ্যাসের ভয়েই পশু-পাখি বা কীটপতঙ্গ এর ধারেকাছে ঘেঁষে না। অর্থাৎ, যে গ্যাস মানুষের চোখে জল এনে দেয়, সেটাই তাকে বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
চোখের জল আটকানোর দারুণ কিছু উপায়:
তবে চাইলেই এই কান্নাকাটি থামানো সম্ভব। কাটার সময় কয়েকটি সহজ ট্রিকস কাজে লাগালে চোখে কোনও জ্বালা করবে না!