
বাসন মাজার শব্দ হোক বা স্টিলের বাসনে চামচের ঘষা লাগার শব্দ, কিংবা ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে লেখার সময় কড়কড়ে আওয়াজ—এই শব্দগুলো শুনলে অনেকেরই গা শিরশির করে, দাঁতে অদ্ভুত অনুভূতি হয় বা প্রচণ্ড অস্বস্তি হয়। কারও কারও মনে হয় যেন দাঁতের মধ্যে ঝনঝন করছে! এমন কেন হয় জানেন? অনেকেরই কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে এই বিষয় নিয়ে।
এর পিছনে রয়েছে আমাদের কানের শব্দ ধরার ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের সেই শব্দকে প্রক্রিয়াকরণের বিশেষ পদ্ধতি।
আমাদের কান সব ধরনের শব্দকে একইভাবে গ্রহণ করে না। কিছু শব্দ কানে মিষ্টি লাগে, আবার কিছু শব্দ শুনলে শরীর কেঁপে ওঠে। চক দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার সময় বা ধাতব বাসন ঘষার সময় উচ্চ কম্পাঙ্কের (High-frequency) শব্দ এবং ঘর্ষণের শব্দ তৈরি হয়। কিছু শব্দ আমাদের শ্রবণতন্ত্রকে বেশি উদ্দীপ্ত করে, ফলে অস্বস্তি হয়।
তবে শুধু উচ্চ কম্পাঙ্কই এর কারণ নয়। শব্দের তীব্রতা, খসখসে ধরন এবং কীভাবে শব্দটি তৈরি হচ্ছে, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।
চক ঘষার শব্দ শুনলে মনে হয় দাঁত ঝনঝন বা শিরশিরানি হচ্ছে! এর কারণ হল, মস্তিষ্ক শব্দটিকে শুধু কানে শোনা একটি আওয়াজ হিসেবে নেয় না; শব্দের তীক্ষ্ণতা ও ঘর্ষণের বৈশিষ্ট্যও প্রক্রিয়া করে। সেই সংবেদন থেকেই দাঁত, চোয়াল বা শরীরের মধ্যে অস্বস্তির অনুভূতি হতে পারে। অর্থাৎ, শব্দ শুনে দাঁতে ঝনঝন করা মানেই দাঁতের কোনও সমস্যা রয়েছে, এমন নয়।
আমাদের মস্তিষ্ক শব্দের প্রকৃতি বুঝে তার প্রতি আবেগ প্রতিক্রিয়াও তৈরি করে। কিছু শব্দকে বিরক্তিকর বা বিপজ্জনক বলে মনে হতে পারে। তখন অস্বস্তি, গা শিরশির করে। তখন সেই শব্দ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, চক দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে ঘষার মতো কিছু শব্দের ক্ষেত্রে শব্দের নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক, তীক্ষ্ণতা এবং মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের প্রতিক্রিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এই অস্বস্তি তৈরি হয়, তা নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে।
না। একই শব্দে একজনের প্রচণ্ড অস্বস্তি হতে পারে, অথচ অন্যজনের কিছুই মনে নাও হতে পারে। এর কারণ হতে পারে—