দোল, হোলিতে কালো পোশাক পরলে কী কী হয় জানেন?

আমাদের দিদিমা-ঠাকুমারা সবসময় শুভ কাজে উজ্জ্বল রঙ পরার পরামর্শ দেন। প্রাচীন কাল থেকেই কালোকে শোক বা বিষাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ধর্মীয়ভাবে মনে করা হয়, শ্রীকৃষ্ণ বা মহাপ্রভুর চরণে আবির দেওয়ার সময় উজ্জ্বল ও পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত, যাতে মনের ভক্তি আর আনন্দ প্রকাশ পায়।

দোল, হোলিতে কালো পোশাক পরলে কী কী হয় জানেন?
Image Credit source: AI

Mar 01, 2026 | 9:19 PM

ফাল্গুনের হাওয়ায় এখন আবিরের গন্ধ। দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে দোল আর হোলি। বাঙালির কাছে দোল মানেই শান্তিনিকেতনি ছোঁয়া, বসন্ত উৎসব আর রাধা-কৃষ্ণের প্রেম। অন্যদিকে হোলি মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ। এই আনন্দের জোয়ারে ভাসতে আমরা যখন আলমারি হাতড়ে সবচেয়ে প্রিয় পোশাকটি খুঁজি, তখন অবলীলায় বাদ পড়ে যায় ‘কালো’। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, ফ্যাশনে যা চিরকাল ‘ইন’, উৎসবের দিনে তা কেন বাদ? এর পেছনে কি কেবল পুরনো সংস্কার, নাকি লুকিয়ে আছে গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক ও জ্যোতিষতত্ত্ব?

জ্যোতিষশাস্ত্রে কালো রঙ সরাসরি শনি দেবের প্রতীক। শনি হলো গাম্ভীর্য, বৈরাগ্য, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার। অন্যদিকে, হোলি উদযাপিত হয় বসন্তের আগমনে, যখন প্রকৃতিতে সূর্যের তেজ বাড়তে থাকে এবং চারপাশ প্রাণশক্তিতে ভরে ওঠে। সূর্য হলো জীবনের কারক, আর শনি ও সূর্যের সম্পর্ক জ্যোতিষশাস্ত্রে চিরকালই প্রতিকূল। বসন্তের এই সন্ধিক্ষণে কালো পোশাক পরলে তা সূর্যের তাপ ও শক্তিকে বাধা দেয়, হোলির সময় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান কিছুটা উগ্র থাকে, তাই কালো পোশাক পরলে মনে অবসাদ বা মেজাজে খিটখিটে ভাব আসার আশঙ্কা থাকে বলে উল্লিখিত রয়েছে জ্যোতিষ শাস্ত্রে।

বড়দের বারণ
আমাদের দিদিমা-ঠাকুমারা সবসময় শুভ কাজে উজ্জ্বল রঙ পরার পরামর্শ দেন। প্রাচীন কাল থেকেই কালোকে শোক বা বিষাদের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ধর্মীয়ভাবে মনে করা হয়, শ্রীকৃষ্ণ বা মহাপ্রভুর চরণে আবির দেওয়ার সময় উজ্জ্বল ও পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত, যাতে মনের ভক্তি আর আনন্দ প্রকাশ পায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রঙের সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের ‘সেরোটোনিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের গভীর যোগ রয়েছে। লাল, হলুদ বা বাসন্তী রঙ মানুষের মনে পজিটিভ এনার্জি তৈরি করে, যা উৎসবের উন্মাদনাকে দ্বিগুণ করে দেয়। অন্যদিকে, কালো রঙের একাকীত্ব বা গাম্ভীর্য উৎসবের সঙ্গে ঠিক মেলে না।

সাদার ম্যাজিক
অনেকেই প্রশ্ন করেন, সবাই কেন সাদা পরেই রঙ খেলে? আসলে সাদা হলো শুদ্ধতা আর শান্তির প্রতীক। সাদা ক্যানভাসে যেমন সব রঙ ফুটে ওঠে, তেমনই দোল বা হোলির দিন সাদা পোশাক পরলে মনের কালিমা ধুয়ে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া বৈজ্ঞানিক দিক থেকে দেখলে, মার্চ মাসের এই গুমোট গরমে সাদা বা হালকা সুতির পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে। আর তাতে একদম আরামে রং খেলা যাবে।

জ্যোতিষীরা আরও একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেন—’আউরা’ (Aura) বা মানুষের চারপাশের তেজঃপুঞ্জ। উজ্জ্বল রঙ আমাদের আউরাকে শক্তিশালী করে, যা বাইরের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, কালো পোশাক পরলে আমাদের আউরা সংকুচিত হয়ে যায়। হোলির দিন যেহেতু প্রচুর মানুষের সমাগম হয়, তাই নিজের মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্যই হালকা ও উজ্জ্বল রঙ (যেমন সাদা বা হলুদ) পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।