
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ঢ্যাঁড়শ থাকলে শরীরের একাধিক উপকার হতে পারে। বিশেষ করে হজমশক্তি ভালো রাখা এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সবজির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢ্যাঁড়শের পিচ্ছিল পদার্থই কি এর অন্যতম স্বাস্থ্যগুণের রহস্য? কী বলছেন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট?
ঢ্যাঁড়শ বা ভেন্ডি ভারতীয় রান্নাঘরের পরিচিত সবজি। ভাজা, তরকারি কিংবা ঝোল—বিভিন্ন ভাবে এটি খাওয়া যায়। তবে অনেকেই ঢ্যাঁড়শের পিচ্ছিল ভাব পছন্দ করেন না। অথচ এই পিচ্ছিল পদার্থের মধ্যেই রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার, যা শরীরের পক্ষে উপকারী হতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, ঢ্যাঁড়শে থাকা এই বিশেষ ধরনের ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। জলের সংস্পর্শে এলে এই ফাইবার জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে, যাকে বলা হয় মিউসিলেজ (Mucilage)। এটি মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
কোলেস্টেরল কমাতে কীভাবে সাহায্য করে ঢ্যাঁড়শ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢ্যাঁড়শের দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পরীক্ষাগার ও প্রাণীদের উপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঢ্যাঁড়শের উপাদান পিত্ত অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মলের মাধ্যমে তা শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। পিত্ত অ্যাসিড তৈরির জন্য যকৃৎ কোলেস্টেরল ব্যবহার করে। ফলে এই প্রক্রিয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
পাশাপাশি, ঢ্যাঁড়শের ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করতে পারে। এর ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুবিধা হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, ঢ্যাঁড়শ খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে, এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও নেই। এই বিষয়ে মানুষের উপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই কোলেস্টেরল বেশি থাকলে শুধু খাবারের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ঢ্যাঁড়শ রাখা যেতে পারে।