
দই (Curd) বা ইয়োগার্ট (Yogurt)— নাম দুটো শুনলেই মনে হয় একই জিনিস, তাই না? দুধ থেকেই তো দুটোই তৈরি হয়। দেখতেও প্রায় একই রকম। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই দুটোর মধ্যে আসল তফাৎটা ঠিক কোথায়? আজকাল বড় বড় সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে পাড়ার দোকানেও নানা ধরনের ইয়োগার্টের দেখা মেলে। অনেকেই ভাবেন, ইয়োগার্ট বোধহয় দইয়েরই একটা আধুনিক নাম। তবে বিজ্ঞান কিন্তু অন্য কথা বলছে। চলুন, আজ একদম সহজ করে জেনে নেওয়া যাক এদের আসল পার্থক্য।
কীভাবে তৈরি হয়?
দই হল আমাদের প্রতিদিনের খুব চেনা একটি খাবার। বাড়িতেই খুব সহজে দই তৈরি করা যায়। দুধ ভালো করে ফুটিয়ে, সামান্য ঠান্ডা করে তার সঙ্গে আগের দিনের একটুখানি দই বা সাজ মিশিয়ে দেওয়া হয়। এর জন্য আলাদা করে কোনও কারখানার দরকার পড়ে না। দইয়ের সাজের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া দুধকে জমিয়ে দই তৈরি করে দেয়।
অন্যদিকে, ইয়োগার্ট কিন্তু কারখানায় তৈরি হয়। এটি জমাতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত নির্দিষ্ট দুটি ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ‘ল্যাকটোব্যাসিলিটাস বুলগারিকাস’ এবং ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাস’ নামের এই বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার জন্যই ইয়োগার্টের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়ির দইয়ের থেকে বেশ আলাদা হয়।
পুষ্টিগুণে কে এগিয়ে?
দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। রোজকার ডায়েটে যে কোনও একটা অনায়াসেই রাখা যায়। তবে নির্দিষ্ট ল্যাব-টেস্টেড ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি হয় বলে ইয়োগার্টে প্রোটিনের পরিমাণ সাধারণ দইয়ের থেকে কিছুটা বেশি থাকে। অন্যদিকে, রোজকার সাধারণ দই আমাদের পেটের জন্য খুব উপকারী। হজমশক্তি বাড়াতে এবং গরমকালে পেট ঠান্ডা রাখতে দই ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
স্বাদ আর চেহারায় তফাৎ
বাড়িতে পাতা দই অনেক সময় একটু জলজলে হতে পারে। দুধের গুণমানের ওপর দইয়ের স্বাদ অনেকটাই নির্ভর করে। কিন্তু ইয়োগার্টের গঠন বেশ ঘন এবং ক্রিমি হয়। আরেকটা বড় তফাৎ হল এর স্বাদ বা ফ্লেভার। বাজারে এখন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা আমের মতো নানা স্বাদের ইয়োগার্ট পাওয়া যায়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, দই হল আমাদের ঘরের কাছের খুব সাধারণ একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। আর ইয়োগার্ট হল নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ায় তৈরি একটু বিদেশি ধাঁচের ডেজার্ট। তাই আপনার স্বাদ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন।