
সাল ২০২০, ১৪ জুন, রবিবার, ঠিক বেলা ১টায় মিলেছিল চাঞ্চল্যকর খবর। ঝুলন্ত অবস্থায় মিলেছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা? গোটা দেশ এক কথায় মানতে নারাজ ছিল। মৃত্যুর মুহূর্ত থেকেই উঠে আসতে শুরু করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তা উষ্কে গেল ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ আরও একবার। নেপথ্যে, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। তিনি দাবি করলেন খুন করা হয়েছে সুশান্তকে। তবে তিনি একাই নন, অতীতে এমন প্রশ্ন বারে বারে উঠে এসেছিল, যার উত্তর আজও অজানা...।

কেন অপেক্ষা: সুশান্ত সিং রাজপুতের ফ্ল্যাটের বিপরীতেই থাকতেন সিদ্ধার্থ পিঠানি। তাঁর বয়ান অনুযায়ী বারে বারে দরজা ধাক্কা দেওয়াতেও লাভ হয়নি। কিন্তু দরজা ভাঙেননি তিনি। কেন চাবিওয়ালাকে ডাকার জন্য বেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়েছিল সেদিন?

দুটো অ্যাম্বুলেন্স কেন? সেদিন সুশান্তের বাড়ির নিজে মিডিয়ার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সকলেই ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে এসেছিল। তবে কেন পরবর্তীতে তার কারণ স্পষ্ট না করেই অস্বীকার করা হল?

কে নামিয়েছে ঝুলন্ত দেহ? তিন তিনজন দাবি করেছিলেন যে ঝুলন্ত দেহ নামিয়েছেন তাঁরা। ১, অ্যাম্বুলেন্সের মালিক, তাঁর কথায় তিনি নামিয়েছেন ঝুলন্ত দেহ, ২. সিদ্ধার্থ পিঠানির কথায়, পরিবারের কথা শুনে তিনি একাই নামিয়েছেন সুশান্তকে, ৩, অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, পুলিশ নামিয়েছেন সুশান্তের দেহ।

কে দিতেন সুশান্তকে ওষুধ? সুশান্ত সিং রাজপুতের ট্রেনার জানিয়েছিলেন, সুশান্তকে ওষুধ দিতেন রিয়া চক্রবর্তী। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ পিঠানি জানান, তিনি সুশান্তরে ওষুধ খাওয়াতেন। এখানেও ছিল প্রশ্ন।

সুশান্ত নাকি দরজাই দিতেন না! সুশান্তের এক কর্মী জানান, তিনি সবসময় খুশি থাকতেন। অবসাদ তাঁর চোখে পড়েনি। তবে রাতে সুশান্ত কোনওদিন দরজা দিয়ে শুনেতন না। তবে সেদিন দরজা কেন দেওয়া ছিল।

মেলেনি কোনও সুইসাইড নোট। ঘরে কোথাও কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। সুশান্তের বাড়িতে ফরেন্সিক টিম যখন পৌঁছায়, তখন সেভাবে কিছু পাননি তাঁরা একটি বাথরোব ছাড়া।

অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিস্ফোরক বয়ান- তিনি জানিয়েছিলেন, সুশান্তের দেহ দেখা মাত্রই তাঁর স্পষ্ট মনে হয়েছিল এটা আত্মহত্যা নয়। কারণ তিনি বহু এই ধরনের দেহ দেখেছেন। মরদেহের রঙ সামান্য পাল্টে যায়, যা তাঁর চোখে পড়েনি, এমন কি, আত্মহত্যার সময় চোখে মুখে যে বিকৃতি আসে, তাও তাঁর চোখে পড়েনি।

সুশান্তের দেহে দাগ- অনেকেই বারে বারে জানিয়েছিলেন, সুশান্তের কাঁধের কাছে বেশ কিছু দাগ ছিল, যা ছবিতেও স্পষ্ট। বাথরোব কাপড়ের হয়। তা দিয়ে যদি মৃত্যু ঘটে তবে এই দাগ হওয়ার কথা নয়। পায়েও ছিল তাঁর বেশ কয়েকটি আঘাতের দাগ। গোপন সূত্রে প্রশ্ন উঠে এসেছিল সুশান্তের দেহের উচ্চতার সঙ্গে নাকি মেলেনি খাট থেকে পাখার উচ্চতাও।

সুশান্ত।