
মন এবং মস্তিষ্ক অনেক সময় এমন কিছু ইমোশনের সঙ্গে লড়াই করে যা নিজেও বোঝা যায় না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের কথা বলা বা আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিখুঁতভাবে ধরতে পারে। মানুষের অজান্তেই তার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারা এখন আর অসম্ভব নয়। Free Pik

AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এখন ডিপ্রেশন, অ্যানজ়াইটি বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের গলার স্বর এবং কথা বলার ধরন বিশ্লেষণ করেই এই প্রযুক্তি রোগের পূর্বাভাস দিয়ে দিতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে এই ব্যবস্থা। Free Pik

Woebot বা Wysa-র মতো AI চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই কথা বলতে প্রস্তুত। এগুলো মূলত ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি’ (CBT) ব্যবহার করে মানুষের নেতিবাচক চিন্তার ধরনকে বদলে দিতে সাহায্য করে। একাকীত্ব কাটাতে বা প্রাথমিক স্বস্তির জন্য এটি এক অনন্য সমাধান হয়ে উঠেছে। Free Pik

অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে বা অর্থের অভাবে থেরাপিস্টের কাছে যেতে কুণ্ঠাবোধ করেন। তারা নামহীন বা অজ্ঞাত পরিচয়ে নিজের সমস্যার কথা AI-এর কাছে প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে মোবাইলেই প্রাথমিক কাউন্সিলিং সেরে নিচ্ছেন অনেকে। Free Pik

মস্তিষ্কের MRI বা fMRI স্ক্যান বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তি কতটা সুস্থ রয়েছেন, তা বুঝতে সাহায্য করছে AI। ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম মস্তিষ্কের এমন সব সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করে, যা সাধারণত মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। এর ফলে PTSD-র মতো জটিল সমস্যা ধরা পড়া সহজ হয়েছে। Free Pik

আপনার হাতের স্মার্টওয়াচ বা স্মার্টফোনটি এখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের পাহারাদার। ঘুমের ধরন, হৃদস্পন্দন এবং শারীরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে AI বুঝতে পারে আপনি মানসিকভাবে ঠিক কতটা চাপে রয়েছেন। নিরন্তর এই নজরদারি বড় কোনও মানসিক বিপর্যয় রুখে দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা Free Pik

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা বার্তার ধরন বিশ্লেষণ করে কেউ চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছেন কি না, তা বুঝতে পারে AI। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করছে। সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দিয়ে বহু জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে এর মাধ্যমে। Free Pik

বিশেষজ্ঞদের মতে, AI কখনোই একজন রক্ত-মাংসের মনোবিদের জায়গা পুরোপুরি নিতে পারবে না। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা নিয়ে কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে মানসিক চিকিৎসায় AI বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। Free Pik