
হালকা এবং সস্তা হওয়ায় বর্তমানে আমাদের রান্নাঘরে অ্যালুমিনিয়ামের আধিপত্য সবথেকে বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্নার বিষয়ে বারবার সতর্ক করছেন। তাই সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই এখন ফিরে যাচ্ছেন পুরনো দিনের সাবেকি পিতলের বাসনে। Getty Images

পিতল মূলত তামা এবং দস্তা বা জিঙ্কের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি যা শরীরের জন্য অপরিহার্য। পিতলের পাত্রে খাবার বা চা তৈরি করলে এই খনিজ উপাদানগুলো সামান্য পরিমাণে খাদ্যে মিশে যায়। এটি প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের তামা ও দস্তার ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। Getty Images

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, তামা ও দস্তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। পিতলের পাত্রে তৈরি খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে ছোটখাটো সংক্রমণ বা ঋতু পরিবর্তনের অসুখ থেকে শরীর দ্রুত সেরে উঠতে পারে। Getty Images

পিতলের একটি অনন্য ক্ষমতা হলো এটি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ধ্বংস করতে পারে। অ্যালুমিনিয়ামের তুলনায় পিতলের বাসনে খাবার অনেক বেশি জীবাণুমুক্ত ও সুরক্ষিত থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলা থাকলেও পিতল সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। Getty Images

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, পিতলের সংস্পর্শে থাকা জল বা খাবার মেটাবলিজম রেট বাড়াতে সাহায্য করে। যাঁদের প্রায়ই গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য পিতলের বাসন আশীর্বাদস্বরূপ। এটি অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিকভাবে সচল রাখতে সাহায্য করে। Getty Images

অ্যালুমিনিয়াম অম্লজাতীয় বা অ্যাসিডিক খাবারের সংস্পর্শে এলে এক ধরণের ক্ষতিকারক বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কিন্তু পিতলের পাত্রের ভেতরে টিন বা 'কলাই' করা থাকলে এই ধরনের কোনও আশঙ্কাই থাকে না। ফলে চা বা টক জাতীয় রান্নার ক্ষেত্রেও পিতল আধুনিক অনেক ধাতুর চেয়ে বেশি নিরাপদ। Getty Images

পিতলের তাপ পরিবাহী ক্ষমতা চমৎকার হওয়ায় এতে রান্না করলে স্বাদ ও সুগন্ধ দীর্ঘক্ষণ অটুট থাকে। বিশেষ করে চায়ের লিকারের স্বাদ ও ঘ্রাণ পিতলের পাত্রে অনেক বেশি খোলতাই হয়। এটি খাবারকে অনেকক্ষণ গরম রাখতে পারে, ফলে বারবার গরম করার ঝামেলাও থাকে না। Getty Images

পিতলের সুফল পেতে হলে সবসময় এর ভেতরের স্তরে 'কলাই' বা টিনের প্রলেপ আছে কি না তা দেখে নিন। কলাই উঠে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, তাই সময়মতো আবার প্রলেপ দেওয়া প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে পিতল ব্যবহার করলে আপনার হেঁশেল হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর। Getty Images