
বর্তমানে ঘরে ঘরে হাম আর চিকেন পক্সের প্রকোপ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ছোটরাই এই রোগের শিকার হচ্ছে সবথেকে বেশি। এই সময়ে সুস্থ হতে ওষুধের থেকে সঠিক পথ্যের দিকেই বেশি নজর দিতে হবে। free pik

হাম বা পক্স হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল বেরিয়ে গিয়ে জলশূন্যতা তৈরি হয়। ভাইরাসের দাপটে শরীরে ভিটামিন এ, সি, জিঙ্ক ও প্রোটিনের প্রবল ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়। free pik

এই সময়ে ঘন ঘন জ্বর আর সারা গায়ে অস্বস্তিকর র্যাশ বেরনোর ফলে শিশু ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শিশুকে শুধু ফলের রস না খাইয়ে মরসুমি সবজি দিয়ে তৈরি পুষ্টিকর স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। সোনা মুগ ডাল, গাজর ও পেঁপে সেদ্ধ করে তাতে সামান্য ঘি মিশিয়ে দিলে তা প্রোটিনের জোগান দেবে। free pik

শরীরে ভিটামিন সি-র জোগান দিতে শিশুকে নিয়মিত কমলালেবু, মুসাম্বির রস কিংবা পেয়ারা খাওয়ানো প্রয়োজন। ভিটামিন এ-র ঘাটতি মেটাতে এবং চোখের সংক্রমণ রুখতে গাজর, মিষ্টি কুমড়ো, পাকা পেঁপে ও পালং শাকের মতো খাবার পাতে রাখা জরুরি। free pik

অসুখের সময়ে মুখে অরুচি হলে জোর করে ভাত না খাইয়ে পাতলা করে দুধ-সুজি কিংবা সাবুদানার খিচুড়ি রান্না করে দেওয়া যায়। ওট্স বা সবজি দিয়ে ডালিয়াও এই সময়ে শিশুদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। দুপুরের দিকে ভাত আর ডাল-সবজি খাওয়ালে বিকেল বা সন্ধ্যায় আম বা আপেল সেদ্ধ চটকে দেওয়া যেতে পারে। free pik

যদি শিশু দুধ খেতে না চায় কিংবা তার দুধে অ্যালার্জি থাকে তবে বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খাওয়ানো যেতে পারে। আখরোট, কাঠবাদাম কিংবা কাজু বাদাম শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব মেটাতে সাহায্য করে। এই বাদামগুলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। free pik

রোজকার খাবারে প্রোটিন নিশ্চিত করতে শিশুকে ছোট মাছ কিংবা জ্যান্ত জিওল মাছ খাওয়ানো সবথেকে ভালো। শিঙি বা মাগুর মাছের ঝোল থেকে শিশু যেমন ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাবে তেমনই তার শরীরের দুর্বলতাও দ্রুত কেটে যাবে। free pik

তবে মনে রাখতে হবে যে মাছ, মাংস কিংবা ডিম—সব কিছু যেন একদিনে শিশুকে না দেওয়া হয়। খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে এগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিন এবং চিকেন দিলে তা স্ট্যু হিসেবে খাওয়ানোই সবথেকে স্বাস্থ্যকর হবে। free pik