
বছরের ১২টি শিবরাত্রি থাকলেও, মহাশিবরাত্রি ব্রত ও উপবাস হল সব উপবাসের সর্বশ্রেষ্ঠ। অনেকে শিবরাত্রির সঙ্গে মহাশিবরাত্রি গুলিয়ে ফেলেন। প্রতি মাসে শিবরাত্রি পালিত হয়, তাই তাকে মাসিক শিবরাত্রি বলা হয়। সেই শিবরাত্রিগুলির উপবাস মহাশিবরাত্রির মতো এত কঠিন হয় না।

বছরে একবার পালিত হয় মহাশিবরাত্রি। প্রতি চন্দ্র মাসের চতুর্দশীতে শিবরাত্রিতে পালিত হয়। সাধারণত অমাবস্যার ঠিক আগের দিনই পালন করা হয় মাসিক শিবরাত্রি। মহাশিবরাত্রির অর্থ হল যে শিবরাত্রি মহান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দুধর্মে উপবাস ও ব্রতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার রীতি রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাওয়া বা পান করার নিষেধাজ্ঞা থাকার অভ্যেস পালন করার নামই হল উপবাস। এই উপবাস ধর্মীয়কারণে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চিকিত্সাস্বাস্থ্যেও উপবাসের গুরুত্ব রয়েছে।

মহাশিবরাত্রিতে উপবাস রাখলে তাকে মহাশিবরাত্রির ব্রত বলা হয়। এই উপবাস বেশ কঠিন। কারণ এই ব্রতের শুভ মহূর্ত যখন থেকে শুরু হবে, সেই সময় থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত উপবাস রাখার নিয়ম রয়েছে। ফলে এই ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে ভক্তদের।

কথিত আছে, শিবকে স্বামী রূপে পাওয়ার জন্য দেবী পার্বতী কঠিন উপবাস রেখেছিলেন। সেই থেকে মহাশিবরাত্রিতে নিজের মনের ইচ্ছে পূরণ করার জন্য ও শিবের আশীর্বাদ পেতে শিবভক্তরা ২৪ ঘণ্টা উপবাসে রাখেন।

শুধু খাবার না খেয়ে নয়, জল পান না করে সারাদিন উপোস রাখা বেশ কঠিন ও কষ্টকর। যদি প্রথমবারের জন্য মহাশিবরাত্রির উপবাস রাখেন, তাহলে আগে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেবেন কীভাবে, তা জেনে নেওয়া উচিত।

সারাদিন উপোস রেখে, শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালার আগে পর্যন্ত কোনও খাবার খান না অনেকেই। তাতে শরীর ক্লান্ত ও ডিহাইড্রেট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যা দ্বিগুণ। অনেকে অজ্ঞান শারীরিক কারণে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যান। সারিদন উপোস রাখলে সঙ্গে অবশ্যই নুন ও চিনি মেশানো জল রাখুন।

বারবার পান করলে শরীর থাকে হাইড্রেটেড ও তরতাজা। ক্লান্তি এড়াতে সারাদিন নারকেলের জলও পান করতে পারেন। তাতে দেহের পটাসিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। বজায় থাকে শরীরের জলের মাত্রাও।

অনেকের উপবাস রাখার অভ্যেস না থাকলে তাদের শরীর আরও বেশ ক্লান্ত হয়ে যায়। তাতে মাথা ঘুরে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনটা হলে ফলের রস ও গরম দুধ পান করতে পারেন। এমনকি বাটারমিল্ক খেতে পারেন।

গর্ভবতী ও গুরুতর অসুস্থ থাকলে মহাশিবরাত্রির উপোস রাখা একেবারেই উচিত না। আর যদি রাখতেই হয়, তাহলে আগে চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে মহাশিবরাত্রির ২৪ ঘণ্টার উপবাস রাখার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

এদিন রান্নাতেও বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। উপবাসের সময় কোনও তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। সেদ্ধ সবজি, দই, সাবদানার খিচুড়ি, স্যুপ, তাজা ফলের রস, মরসুমি ফল, লাল বা কালো চা, দুধ, সাদা কুমড়োর তরকারি খেতে পারেন।