
কাঁঠাল আমরা অনেকেই খাই। অনেকেই কাঁঠালের বিচি সেদ্ধ করেও খায়। কিন্তু মাঝেমাঝে অনেকেরই মনে একটা প্রশ্ন জাগে, কাঁঠাল আসলে ফল নাকি সব্জি? বিশেষ করে কাঁচা কাঁঠাল বা এঁচোড় রান্না করে খাওয়া হয়, আবার পাকা কাঁঠাল মিষ্টি ফল হিসেবে খাওয়া হয়। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর সঠিক পরিচয় কী? (Pic Credit - PTI)
বিজ্ঞানের ভাষায় কাঁঠাল আসলে একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus Heterophyllus। কাঁঠাল গাছের ফুল থেকে এই ফল তৈরি হয় এবং এর ভিতরে বীজ থাকে। তাই উদ্ভিদবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী কাঁঠালকে ফল হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। (Pic Credit - PTI)
কাঁচা কাঁঠাল আসলে শক্ত ও কম মিষ্টি হয়। এর আর এক নাম এঁচোড়। এর স্বাদ অনেকটা কষা হওয়ার ফলে মাছ, মাংস ও বিভিন্ন মশলা দিয়ে রান্না করা যায়। ভারত, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে জনপ্রিয়। (Pic Credit - PTI)
কাঁঠাল পুরোপুরি পেকে গেলে এর ভিতরের কোয়া হলুদ বা কমলা রঙের হয়। তখন কোয়া নরম, রসালো ও মিষ্টি হয়ে যায়। অনেকে পাকা কাঁঠাল সরাসরি খান। এছাড়া মিষ্টি, পানীয় ও বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও ব্যবহার করেন। (Pic Credit - PTI)
কাঁঠালের একটি বিশেষ পরিচয় আছে। এটি বিশ্বে গাছে জন্মানো সবচেয়ে বড় ফল হিসেবে পরিচিত। একটি কাঁঠালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ সেমী ও ওজন প্রায় ৩৬ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। তবে সব কাঁঠাল কিন্তু এত বড় হয় না। একটি পরিণত কাঁঠাল গাছে বছরে অনেক ফল ধরতে পারে। উপযুক্ত পরিবেশে একটি গাছে প্রায় ২০০টি কাঁঠাল জন্মাতে পারে। কিছু পুরোনো গাছে বছরে ৫০০টি অবধিও ফল ধরে। (Pic Credit - PTI)
কাঁঠাল গাছের ফল, বীজ, পাতা, কাঠ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। কাঁঠালের বীজ সেদ্ধ বা ভেজে খাওয়া যায়। অন্যদিকে, গাছের কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র ও বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা যায়। তাই এই গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক বেশি। (Pic Credit - PTI)
বৈজ্ঞানিকভাবে কাঁঠাল একটি ফল। তবে কাঁচা অবস্থায় এটি সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। আবার পেকে গেলে মিষ্টি ফল হিসেবে খাওয়া হয়। অর্থাৎ, কিভাবে খাওয়া হচ্ছে তার উপর কাঁঠালের পরিচয় নির্ভর করে না । বরং উদ্ভিদবিদ্যার নিয়মে এটি সবসময় একটি ফল। (Pic Credit - PTI)