
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এ রকম অনেক প্রাচীন মন্দির রয়েছে, যেখানকার দেওয়ালে খোদিত চিত্রকলা এখনও বিস্মিত করে পর্যটকদের।

মন্দিরের দেওয়ালের বিভিন্ন চিত্রকলা সে সময়ের স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যের নির্দশনও বটে। এমনকি সেই সময়কালের সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলনও ঘটায় এই সব চিত্রকলা।

যৌনতা নিয়ে বর্তমান যুগে যতই ছুৎমার্গ থাক, সেই সব চিত্রকলাতে কিন্তু যৌনতার নিদর্শন ভূরি ভূরি। খাজুরাহো নয়, পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ওড়িশাতেও রয়েছে এমন মন্দির, যেখানে যৌন চিত্রকলা অন্যতম আকর্ষণের বিষয়।

ওড়িশার কোনার্কে রয়েছে সূর্য মন্দির। পুরী থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির নিয়ে এখনও বিস্ময়ের শেষ নেই।

প্রায় ৮০০ বছর আগে ওড়িশায় সমুদ্রতটের কাছে গড়ে উঠেছিল এই মন্দির। সূর্য দেবতাকে উৎসর্গ করেই গড়ে তোলা হয় এই মন্দির। পাথরের এই মন্দির তৈরি করতে ১২ বছর সময় লেগেছিল।

এই মন্দির তৈরি রথের আদলে। গোটা মন্দির যেন রথের উপর বসে। সেই রথে রয়েছে ২৪ চাকা। এবং ঘোড়া টানছে সেই রথ। এই মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে রয়েছে সিংহমূর্তি।

এই সবের গায়েই খোদিত রয়েছে প্রচুর চিত্র, যাতে ফুটে ওঠে যৌনতা। যৌনতার বিভিন্ন ধরনও ফুটে উঠেছে সেখানে।

কেবল নারী-পুরুষ নয়, যৌনতার বিভিন্ন ধরন, দলবদ্ধ যৌনতা, উভকামিতার চিত্রও রয়েছে সেখানে। সেই সঙ্গে নারী-পুরুষের যৌনাঙ্গের প্রদর্শনও রয়েছে।

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও মুগ্ধ করেছিল এই মন্দিরের স্থাপত্য। তা দেখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “মানুষের ভাষাকে হারিয়ে দিয়েছে পাথরের ভাষা।”