
সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো, আর এই সময় বাঙালির ঘরে ঘরে নারকেল কোরানো হবেনা তা কি কখনও হয়! দেবীর আরাধনায় প্রসাদের থালায় এই গোলগাল মিষ্টির উপস্থিতি যেন একেবারে বাধ্যতামূলক। তবে ছোটবেলা থেকে এই প্রসাদ খেয়ে বড় হলেও, একে বিশ্বের দরবারে ইংরেজিতে ঠিক কী বলে তা অনেকেরই অজানা। Getty Images
লক্ষ্মীপুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই ঠাকুরমা-দিদিমাদের হাতে তৈরি এই বিশেষ মিষ্টির সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বাজার থেকে যতই রকমারি মিষ্টি কিনে আনা হোক না কেন, বাড়ির তৈরি এই প্রসাদের কদর আজও সমান। চিঁড়ে, মুড়কি আর খইয়ের সঙ্গে এই নারকেলের পদের যুগলবন্দি ছাড়া কোজাগরী উৎসব একেবারেই অসম্পূর্ণ। Getty Images
এই পদটি তৈরি করার রেসিপি বেশ নজরকাড়া হলেও, এর জন্য প্রয়োজন হয় চরম ধৈর্যের। কোরানো নারকেলের সঙ্গে পরিমাণমতো গুড় মিশিয়ে আগুনের আঁচে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ধীরে ধীরে জ্বাল দিতে হয়। মিশ্রণটি আঠালো হয়ে এলে হাতের তালুতে সামান্য ঘি মাখিয়ে গরম অবস্থাতেই নিখুঁত গোল আকার দিতে হয়। Getty Images
একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই কিন্তু পাক নষ্ট হয়ে যায়, আর তখন গোল্লা পাকানো দারুণ মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এর রেসিপিতে নানা বৈচিত্র্য রয়েছে, কোথাও চিনি দিয়ে ধবধবে সাদা রঙের তৈরি হয়। আবার কোথাও খেজুর বা আখের গুড় দিয়ে তৈরি গাঢ় বাদামি রঙের মিষ্টির কদর সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। Getty Images
স্বাদ ও সুবাস বাড়াতে অনেক সময় এই মিশ্রণের মধ্যে সামান্য এলাচ গুঁড়ো বা কর্পূরের ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়। আজকাল সময়ের অভাবে অনেকেই দোকান থেকে কিনে আনলেও, বাড়ির তৈরি প্রসাদের আসল স্বাদ তাতে পাওয়া যায় না। আধুনিক যুগে সবকিছু যখন গ্লোবাল হচ্ছে, তখন বাংলার এই নিজস্ব খাবারটিও বা পিছিয়ে থাকবে কেন? Getty Images
নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই দেশীয় মিষ্টির স্বাদ চেটেপুটে নিলেও এর বিদেশি নাম নিয়ে কিন্তু মাথা ঘামান না। বিশ্বের দরবারে নিজস্ব সংস্কৃতির খাবারকে তুলে ধরতে গেলে একটি যুৎসই ইংরেজি নামের প্রয়োজন তো হবেই। কোনও বিদেশি বন্ধু যদি কখনও এই মিষ্টির নাম জানতে চান, তখন তো সঠিক উত্তরটা দিতে হবে। Getty Images
পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে সাধারণত যে কোনও খাবারের নামকরণ হয় তার মূল উপাদানের ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু এই মিষ্টি মূলত নারকেল এবং গুড় দিয়ে গোল করে পাকানো হয়, তাই ইংরেজি নামটিও সেই ধাঁচেই রাখা হয়েছে। যদিও বাংলার আবেগ জড়ানো এই নামটিকে কোনও বিদেশি ভাষাতেই পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। Getty Images
বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেতে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিটিকে ইংরেজিতে 'সুইট কোকোনাট বলস' (Sweet Coconut Balls) বলা হয়ে থাকে। আর যদি এতে গুড় ব্যবহার করা হয়, তবে বিদেশিরা একে 'কোকোনাট জ্যাগ্রি বলস' (Coconut Jaggery Balls) বলে ডাকেন। নাম যাই হোক না কেন, বাঙালির কাছে এই প্রসাদের স্বাদ ও আবেগ চিরকাল একই রকম থেকে যাবে। Getty Images