
শসা কাটার সময় অনেকেই খোসাটা বাদ দিয়ে দেন, আবার অনেকেই খোসা শুদ্ধুই খেয়ে ফেলেন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই রোজকার অভ্যাসটি কি স্বাস্থ্যকর নাকি মারাত্মক কোনও ভুল? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
একদলের মতে শসার খোসা খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর, আবার অনেকেই বলেন এটি ছাড়া শসা খাওয়াই বৃথা। এই দুই ভিন্ন মতের মধ্যে আসলে কোনটা ঠিক? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে খোদ পুষ্টিবিজ্ঞানে।
পুষ্টিবিদদের মতে, শসার অধিকাংশ পুষ্টিগুণই আসলে লুকিয়ে থাকে এর খোসায়। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমানোর ডায়েটে আছেন, তাঁদের জন্য এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ফাইবার থাকায় এটি খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে। ফলে বারবার খিদে পায় না এবং শরীরের মেটাবলিজমও বৃদ্ধি পায়।
তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়, এর একটা অন্ধকার দিকও রয়েছে। আজকাল বাজারে বিক্রি হওয়া শসাকে চকচকে দেখাতে এর গায়ে মোমের প্রলেপ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে মেশানো হয় প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক।
তাই বাজার থেকে কেনা শসা সরাসরি খোসা সমেত খেয়ে নেওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এই মোমের প্রলেপ ও বিষাক্ত উপাদান সাধারণ জলে ধুলে পরিষ্কার হয় না। ফলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
এই রাসায়নিকের প্রভাব কাটাতে হালকা গরম জলে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে শসাগুলোকে ভিজিয়ে রাখুন। অন্তত দশ মিনিট পর ভালো করে ঘষে ধুয়ে নিলে ক্ষতিকর মোম অনেকটাই দূর হয়ে যায়।
শসার গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক যদি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে পারেন, তবে খোসাসমেত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কিন্তু পরিষ্কার করার সুযোগ না থাকলে ঝুঁকি না নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই নিরাপদ।