
ছোটবেলায় ললিপপ খাওয়া শেষ হলেই ফাঁপা কাঠিটা নিয়ে ফুঁ দিতেন অনেকেই। ভাবখানা এমন, যেন ওই প্লাস্টিকের কাঠি থেকে এখনই চমৎকার কোনও বাঁশির সুর বেরোবে! কি, তাই তো? কিন্তু হাজার চেষ্টাতেও কোনও লাভ হয়নি কেন জানেন? কারণ, ওই ছোট্ট ফুটোটি বাঁশি বাজানোর জন্য দেওয়াই হয়নি।
কাঠির ঠিক মাথায় থাকা ফুটোটা দেখলে যে কারও মনে হতে পারে, ওটা বুঝি বাঁশি বাজানোর জন্যই তৈরি! ছোটবেলার সেই মজাদার ভুল ধারণা আজও অনেকের মনে একেবারে গেঁথে আছে। তবে এর পেছনের আসল কারণটি শুনলে আপনিও রীতিমতো অবাক হবেন।
কারখানায় যখন ললিপপ তৈরি হয়, তখন এই কাঠির ওপর গরম আর তরল মিষ্টি রস ঢালা হয়। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় আসল ম্যাজিক। ওই তরল গরম ক্যান্ডির কিছুটা অংশ সোজা ওই ছোট্ট ফুটোর ভেতরে ঢুকে যায়।
ফুটোর ভেতরে ঢুকে যাওয়া সেই তরল ক্যান্ডি ঠান্ডা হতেই একেবারে শক্ত হয়ে যায়। তখন ভেতরের ওই অংশটি একটা মজবুত হুক বা লকের মতো কাজ করে। এই লকের কারণেই ললিপপের গোল অংশটি কাঠির সঙ্গে একদম শক্তভাবে আটকে থাকে।
একবার ভেবে দেখুন তো, যদি এই ফুটোটি না থাকত, তাহলে কী হত? প্লাস্টিকের কাঠি ভীষণ মসৃণ হওয়ায় ললিপপের গোলাটি খুব সহজেই পিছলে খুলে যেতে পারত। আর ক্যান্ডি খুলে সোজা গলায় আটকে গেলে বড়সড় কোনও বিপদ ঘটে যাওয়ার ভয় থাকত।
ছোটরা তো আর শান্ত হয়ে বসে ললিপপ খায় না, তারা ছুটোছুটি করতে করতেই ক্যান্ডি মুখে দেয়। সেই সময় গোলাকার ক্যান্ডিটি খুলে গলায় আটকে গেলে শ্বাসরোধ হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এই ধরনের মারাত্মক বিপদ এড়াতেই প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো কাঠিতে এই ছোট্ট ফুটোটি রাখে।
শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই ললিপপের কাঠিতে এই ছোট্ট ফুটোটি রাখা হয়। এই সামান্য একটা ফুটোই বাচ্চাদের অনেক বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়। বাঁশি বাজানোর জন্য এটি একেবারেই তৈরি করা হয় না, আর ঠিক সেই কারণেই হাজার ফুঁ দিলেও এতে কোনও আওয়াজ হয় না।
তাই যে জিনিসটিকে আপনি সারা জীবন খেলনা বাঁশি ভেবে এসেছেন, তা আসলে সবার প্রাণরক্ষাকারী। এবার থেকে যখনই ছোটদের ললিপপ খেতে দেখবেন, তখন এই মজাদার সত্যিটার কথা নিশ্চয়ই আপনার মনে পড়বে।