
মহিলা সংরক্ষণ বিল (সংশোধনী) নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বাংলায় এসে এই ইস্যুতে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একে অপরকে আক্রমণ করে কী বললেন তাঁরা?

আজ রাজ্যে একাধিক সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রত্যেক সভা থেকে মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। অভিযোগ তুলেছেন, তৃণমূল চায় না বিধানসভায় সদস্য সংখ্যা বাড়ুক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "তৃণমূলের আরও একটা দুর্নীতি সামনে এসেছে। গোটা দেশ চাইছে যে, সংসদ ও বিধানসভাতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন লাগু হোক। এই ইস্যুতে সংসদে ভোটাভুটি হয়। কিন্তু, তৃণমূল চায়নি যে আগামী বিধানসভায় মহিলা বিধায়কের সংখ্যা বাড়ুক।"

তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মোদী বলেন, "আরও একবার বাংলার মহিলাদের প্রতারিত করেছে তৃণমূল। সংসদে মহিলাদের সংখ্যা বাড়ুক, চায় না তৃণমূল। কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিলকে আটকে দিয়েছে তৃণমূল।” তাঁর আরও অভিযোগ, তৃণমূল শুধু অনুপ্রবেশকারীদেরই চায়।

মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে মোদীকেও পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে বিষয়টির সমাধান না করে বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। আমি এটা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় নারীদের জন্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে থেকেছে।"

মোদীর ভাষণকে ভণ্ডামি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "গতকাল আপনি যা করেছেন তা ছিল কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামি। আপনি অনুভব করতে পারছেন যে ক্ষমতা আপনার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। আর আর তা আঁকড়ে ধরে রাখতে আপনি যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দেন, তৃণমূল মহিলাদের পাশে রয়েছে। বলেন, "লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশ নারী। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ মহিলা সদস্যকে মনোনীত করেছি। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না এবং কখনও ওঠেওনি।"

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক গুরুত্বরপূর্ণ। মহিলা ভোট টানতেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প করেছে তৃণমূল। এবারের নির্বাচনে বিজেপিও নারী সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে জোর দিয়েছে।