
মধ্য প্রাচ্য়ের সঙ্কটে আপাতত ইতি। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে ইরান-আমেরিকা। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্ব জুড়ে এলপিজি ও তেলের দাম অনেকটা বেড়েছিল। যুদ্ধ তো আপাতত থামছে, ভারতে কি এলপিজি সঙ্কট মিটবে?

এলপিজি সঙ্কটের আবহে ভারত সরকার বড় ঘোষণা করল। এলপিজির নতুন বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। কারা এবার থেকে আগে এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন?

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ফার্মাসিউটিক্যাল, খাবার, ফুড প্রসেসিং, পলিমার, প্য়াকেজিং, পেইন্ট, স্টিল, সেরামিক, গ্লাস ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বেশি করে এলপিজি বরাদ্দ করা হবে।

দেশের আর্থিক স্থিতাবস্থা ও সরবরাহের চেইন বজায় রাখতে এই ক্ষেত্রগুলিকে অত্যাবশ্যকীয় (essential) বলে মনে করা হয়। তাই এই ক্ষেত্রগুলিতে যাতে কোনওভাবে এলপিজি সঙ্কট না তৈরি হয়, তার জন্য এখানে বাল্ক সাপ্লাই বা সরবরাহ করা হবে।

নতুন ফর্মুলায় এই সেক্টরগুলিতে মার্চ মাসের আগে অর্থাৎ ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ও এলপিজি সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে যে পরিমাণ এলপিজি গ্রহণ করা হত, বর্তমানে তার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করা হবে। গোটা সেক্টরের জন্য দৈনিক ২০০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সেই সমস্ত ফ্যাক্টরিকে অগ্রগণ্যতা দেওয়া হবে, যেখানে এলপিজির বিকল্প হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা যাবে না। অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে এই ক্ষেত্রগুলিতে আগে এলপিজি সরবরাহ করা হবে।

যে সমস্ত রাজ্যে পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস বা পিএনজির পরিষেবা রয়েছে, সেখানে শিল্পাঞ্চলগুলিকে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলিতে রেজিস্টার করতে বলা হয়েছে নতুন সংযোগের জন্য। এলপিজি সঙ্কট দেখা দেওয়ার পর থেকে বিকল্প শক্তি, বিশেষ করে পিএনজি ব্যবহারের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে পডুয়াদের জন্যও কেন্দ্র বড় পদক্ষেপ করেছে। ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। এবার থেকে শুধুমাত্র পরিচয়পত্র দিয়েই ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কেনা যাবে। কোনও ঠিকানার প্রমাণ দিতে হবে না। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ৭.৮ লাখ ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে দেশজুড়ে।