
পকেটে থাকা খুচরো পয়সাগুলোর দিকে কখনও ভালো করে লক্ষ্য করেছেন কি? খেয়াল করলে দেখবেন, কিছু কয়েনের ধার একদম মসৃণ হলেও বাকিগুলোর ধারে সূক্ষ্ম খাঁজ কাটা থাকে। অনেকেই ভাবেন এটি নিছকই কোনও সাধারণ নকশা, কিন্তু এর পিছনে লুকিয়ে আছে শতাব্দীর পুরনো এক ইতিহাস। Getty Images
ষোড়শ শতকের ইউরোপে এই খাঁজ কাটা কয়েনের ইতিহাস শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই যুগে মুদ্রা তৈরি হত খাঁটি সোনা এবং রুপো দিয়ে, যার ফলে ধাতু হিসেবে কয়েনগুলির বেশ ভালোই মূল্য ছিল। আর এই মূল্যবান ধাতুর লোভেই তখন একদল অসাধু মানুষ এক অভিনব জালিয়াতির পথ বেছে নিয়েছিল। Getty Images
জালিয়াতরা কয়েনের ধার থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কিছুটা ধাতু কেটে নিত, যা খালি চোখে ধরা পড়ত না। এই পদ্ধতিকে সেই সময় 'কয়েন ক্লিপিং' বলা হত এবং এই কাটা অংশ তারা নিজেদের কাছে রেখে দিত। এর ফলে বাজারে যে মুদ্রাগুলি ঘুরত, তার ওজন আসল ওজনের চেয়ে বেশ কিছুটা কমে যেত। Getty Images
খুব দ্রুত এই জালিয়াতি এক বড়সড় অর্থনৈতিক সঙ্কটের আকার ধারণ করে এবং সাধারণ মানুষ মুদ্রার আসল মূল্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এই সমস্যা মেটাতেই সরকার কয়েনের ধারে নকশা বা খাঁজ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে কেউ কয়েনের ধার কাটলেই সেই নকশা নষ্ট হয়ে যেত এবং জালিয়াতি সহজেই ধরা পড়ত। Getty Images
বর্তমানে আর সোনা বা রুপোর মুদ্রা তৈরি হয় না, তার বদলে শঙ্কর ধাতু ব্যবহার করা হয়। তাই এখন আর কয়েনের ধার কেটে ধাতু চুরি করার কোনও মানেই হয় না। তবুও আধুনিক যুগেও কয়েনের ধারে এই খাঁজ কাটা নকশা কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। Getty Images
এর পিছনে একটি বড় কারণ হল ঐতিহ্য, যা যুগের পর যুগ ধরে মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে মান্যতা পেয়ে এসেছে। তাছাড়া এই খাঁজকাটা নকশার কারণে কয়েন হাতে ধরতেও বেশ সুবিধা হয়। ভিজে বা ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাত থেকে মসৃণ কয়েন সহজেই পিছলে যেতে পারে, কিন্তু খাঁজ থাকলে গ্রিপ ভালো হয়। Getty Images
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল দৃষ্টিহীন মানুষদের সাহায্য করা। অনেক দেশে বেশি মূল্যের কয়েনগুলিতে খাঁজ থাকে এবং কম মূল্যের কয়েনগুলি মসৃণ হয়। পকেটে হাত দিয়ে শুধুমাত্র স্পর্শ করেই দৃষ্টিহীনরা এর মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে তারা কত টাকার মুদ্রা হাতে ধরে আছেন। Getty Images
এছাড়াও আধুনিক যুগে জাল মুদ্রা তৈরি রুখতেও এই খাঁজকাটা নকশা একটি অতিরিক্ত সুরক্ষার স্তর হিসেবে কাজ করে। ডিজিটাল পেমেন্টের যুগেও আমাদের রোজকার জীবনে মুদ্রার ব্যবহার কিন্তু একদমই ফুরিয়ে যায়নি। তাই পরের বার হাতে কয়েন পেলে মনে রাখবেন, এই ছোট খাঁজগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইতিহাস। Getty Images