
সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে একটি অদ্ভুত দাবি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাউটারের ওপর সাধারণ একটি কয়েন রাখলে নাকি ইন্টারনেটের গতি একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়। কিন্তু এই দাবিটি কি আদতেও বৈজ্ঞানিক নাকি নিছক একটি রটনা? Gemini AI

রাউটার সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ বা ৫ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। ওয়াই-ফাই তরঙ্গগুলো সেন্টিমিটারে পরিমাপ করা হয়, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। একটি ছোট ধাতব কয়েন এই জটিল তরঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ বা রিফ্লেক্ট করার মতো সক্ষমতা রাখে না। Gemini AI

অনেকে মনে করেন কয়েনটি একটি অ্যান্টেনা হিসেবে কাজ করে সিগন্যাল বুস্ট করবে। প্রকৌশলীদের মতে, অ্যান্টেনা হতে হলে সেটিকে রাউটারের ভেতরের সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। প্লাস্টিক বডির ওপর রাখা একটি আলগা কয়েন কখনোই অ্যান্টেনার কাজ করতে পারে না। Gemini AI

রাউটারের ভেতরে প্রসেসর এবং রেডিও অ্যামপ্লিফায়ার থাকে যা অনবরত তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপ বের হওয়ার জন্য রাউটারের ওপরে ছিদ্র বা ভেন্টিলেশন থাকে। সেখানে কয়েন রাখলে বায়ু চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। Gemini AI

যখন রাউটার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়, তখন এটি নিজেকে ঠান্ডা করতে প্রসেসিং পাওয়ার কমিয়ে দেয়। ফলে ইন্টারনেটের গতি বাড়ার বদলে উল্টো কমে যেতে শুরু করে এবং কানেকশন বারবার ড্রপ হতে থাকে। কয়েন ট্রিকটি আসলে আপনার রাউটারের আয়ু কমিয়ে দেয়। Gemini AI

নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাউটারের আশেপাশে ধাতব বস্তু রাখা সিগন্যালের জন্য ক্ষতিকর। ধাতু ওয়াই-ফাই তরঙ্গকে বাধাগ্রস্ত এবং বিক্ষিপ্ত করে দেয়। তাই রাউটারের ওপর কয়েন রাখা মানেই হল সিগন্যাল প্রবাহে বিঘ্ন ঘটানো। Gemini AI

ইন্টারনেট ভালো পেতে রাউটারকে ঘরের মাঝখানে এবং কিছুটা উঁচু স্থানে রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন রাউটারটি যেন আলমারির ভেতরে বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পেছনে ঢাকা পড়ে না থাকে। এতে কোনও বাড়তি খরচ ছাড়াই ভালো কভারেজ পাওয়া সম্ভব। Gemini AI

সহজ কথায়, রাউটারে কয়েন রেখে স্পিড বাড়ানোর দাবিটি একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ভ্রান্ত ধারণা। আধুনিক রাউটারগুলো অনেক সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়, যেখানে একটি কয়েন কোনো উপকারে আসে না। তাই ভুল তথ্যে কান দিয়ে নিজের শখের ডিভাইসের ক্ষতি করবেন না। Gemini AI