
মে মাসের প্রথম দিনটি ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, ১ মে শুক্রবার উদযাপিত হতে চলেছে বুদ্ধ পূর্ণিমা (Buddha Purnima)। হিন্দু পুরাণ ও বৌদ্ধ ধর্মমতে এই দিনটি অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে। মনে করা হয়, এই তিথিতেই ভগবান বিষ্ণু পৃথিবীর দুঃখ হরণ করতে মহাত্মা বুদ্ধ রূপে অবতার গ্রহণ করেছিলেন। তাই জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী সারা বছর অর্থকষ্টে ভুগলে বা ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চাইলে এই বিশেষ দিনে কিছু শুভ বস্তু বাড়িতে আনা অত্যন্ত জরুরি।
সৌভাগ্যের দুয়ার খুলতে শুক্রবার কোন কোন জিনিস আপনার ড্রয়িং রুম বা পুজোর ঘরে জায়গা পাওয়া উচিত? কি বলছেন বাস্তুশাস্ত্র ?
১. পিতলের হাতি
বাস্তুশাস্ত্র ও ফেং শুই—উভয় মতেই হাতিকে অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়। বুদ্ধ পূর্ণিমায় একটি পিতলের হাতি কিনে আনলে গৃহের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। এটি কেবল ঘর সাজানোর সামগ্রী নয়, বরং পরিবারে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার বা বসার ঘরে এটি রাখা সবচেয়ে ভালো।
২. বুদ্ধ মূর্তি:
আপনার মন কী খুব অস্থির? কাজে মন বসাতে অসুবিধা হয়?অস্থির মন শান্ত করতে এবং ঘরের পজিটিভ ভাইবস বাড়াতে একটি বুদ্ধ মূর্তির কোনো বিকল্প নেই। ফেং শুই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দিনে ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ বা ‘লাফিং বুদ্ধ’ বাড়িতে আনলে মানসিক চাপ কমে ও সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়। মনে রাখবেন, মূর্তিটি যেন কোনও পরিষ্কার এবং উঁচু স্থানে রাখা হয়।
৩. রুপোর মুদ্রা:
রুপোকে পবিত্রতা ও চন্দ্রের প্রতীক মনে করা হয়। পূর্ণিমার দিন রুপোর মুদ্রা কেনা অত্যন্ত লাভজনক। এই রুপোর সিক্কা আপনার সিন্দুক বা পুজোর স্থানে রাখলে আর্থিক অভাব দূর হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। অনেকে একে নতুন কোনও কাজের শুভ সূচনা হিসেবেও দেখেন।
৪. শ্রী যন্ত্র:
ধনলক্ষ্মীর আশীর্বাদ পেতে ‘শ্রী যন্ত্র’ অত্যন্ত শক্তিশালী এক মাধ্যম। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রী যন্ত্রের মধ্যেই দেবী লক্ষ্মী বাস করেন। বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন এই যন্ত্র স্থাপন করে নিয়মিত পুজো করলে আয়ের নতুন উৎস খুলে যায় এবং ব্যবসায়িক উন্নতি ঘটে।
৫. কড়ি:
আগেকার দিনে কড়িকেই মনে করা হতো সম্পদের চিহ্ন। মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয় এই কড়ি বুদ্ধ পূর্ণিমায় বাড়িতে আনা বিশেষ কল্যাণকর। একগুচ্ছ কড়ি লাল কাপড়ে মুড়ে সিন্দুকে বা ক্যাশ বাক্সে রাখলে সারা বছর হাতে অর্থের জোগান থাকে।