
গত মাসেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে জনসাধারণের জন্য। এবার অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে তৈরি আবুধাবির প্রথম জমকালো মন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ২৭ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত এই মন্দিরটি আবুধাবির আল ওয়াকবা নামে একটি জায়গায় তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে বিপিএএস সংস্থার তৎকালীন প্রধান স্বামী মহারাজজি দ্বারা কল্পনা করা হয়েছিল এই মন্দির। রামমন্দিরকে কেন্দ্র করে সারা দেশজুড়ে যে আনন্দোত্সব দেখা গিয়েছিল, সেই আনন্দ অনুভূতি দেখা গিয়েছে এবার মরুদেশের ভারতীয়দের মধ্য়েও। অনেকেই হয়তো জানেন না, আবুধাবির প্রথম বৃহত্তম হিন্দু মন্দিরটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অযোধ্য়ার রামমন্দিরও।
উল্লেখ্য, এই বিশাকার ও সুন্দর মন্দিরের জন্য জমি ২০১৭ সালে আবুধাবির যুবরাজ উপহার দিয়েছিলেন এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল এপ্রিল ২০১৯ সালে। মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর পবিত্র নদী গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী থেকে আনা জল-পাথরে নিবেদনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা হয়। এই মন্দির নির্মাণে ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মন্দিরে খোদাই করা হয়েছে হাত দিয়ে, আর সেগুলি তৈরি করতে ভারত থেকে বিশেষ শিল্পীদের আনা হয়েছিল। এই কারিগররা ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির স্থাপত্যের বিশেষজ্ঞ। বলা যেতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যের হিন্দুদের সবচেয়ে বড় মন্দির। শুধু তাই নয়,
মন্দিরে লোহা ও ইস্পাত, কোনওটাই ব্যবহার করা হয়নি। বড় বড় পাত্রে করে ভারত থেকে আনা আবুধাবির মন্দিরের দুপাশে গঙ্গা ও যমুনার পবিত্র জল প্রবাহিত। যেখানে গঙ্গার জল প্রবাহিত হচ্ছে, আবার সেখানে বারাণসীর আদলে একটি ঘাটও স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এটি সাতত বছর ধরে কোনও রকম ক্ষতির মুখে পড়বে না।
আবুধাবির এই মন্দিরটি জয়পুরের গোলাপী বেলেপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেই একই পাথর অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের সময় ব্যবহার করা হয়েছে। এই মন্দিরটি অযোধ্যার মন্দিরের মতোই বড় করে তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরের প্রতিটি কোণে রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া। যেখানে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি খোদাই করা হয়েছে।