
পঞ্জিকা অনুযায়ী নববর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে অক্ষয় তৃতীয়া। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। মনে করা হয়, এই বিশেষ তিথিতে যা করা হয়, তার ফল কখনওই ক্ষয় হয় না। তাই তো ব্যবসার হালখাতা থেকে শুরু করে নতুন গৃহপ্রবেশ— সবকিছুর জন্যই বাঙালির প্রথম পছন্দ অক্ষয় তৃতীয়া। আর এই দিনটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সোনা কেনার রেওয়াজ। কিন্তু বর্তমানে মধ্যবিত্তের পকেটে যে হারে টান পড়ছে, আর সোনার দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হচ্ছে, তাতে সোনা ছোঁওয়াই যেন দায়!
তবে কি অক্ষয় তৃতীয়ায় আপনার বাড়িতে লক্ষ্মী লাভ হবে না? একদমই তেমনটা নয়। শাস্ত্র বলছে, অক্ষয় তৃতীয়ায় কেবল সোনা কিনলেই যে পুণ্য হবে, তা কিন্তু নয়। এমন কিছু সস্তার জিনিস রয়েছে যা এই শুভ দিনে ঘরে আনলে সোনার মতোই ফল পাওয়া যেতে পারে।
কবে পড়েছে অক্ষয় তৃতীয়া?
২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে আগামী ১৯ এপ্রিল (বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ বৈশাখ)। জ্যোতিষ গণনায় দেখা গিয়েছে, ১৯ এপ্রিল দুপুর ১টা বেজে ১৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড থেকে তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে। এই তিথি বজায় থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ২০ এপ্রিল সকাল ১০টা ৫১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড পর্যন্ত।
সোনা না কিনলেও ফিরবে ভাগ্য!
যাঁদের পক্ষে সোনা কেনা সম্ভব নয়, তাঁরা এই দিনে ধনে বীজ কিনতে পারেন। মনে করা হয়, ধনে মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় অল্প কিছু ধনে কিনে মায়ের চরণে নিবেদন করলে সংসারে সমৃদ্ধি আসে। এছাড়া তামার বাসন বা মাটির পাত্র কেনাও অত্যন্ত শুভ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটি হল মঙ্গলের কারক। অক্ষয় তৃতীয়ায় একটি নতুন মাটির কলসি বা পাত্র কিনে তাতে গঙ্গাজল ভরে বাড়িতে রাখলে অশুভ শক্তি দূরে পালায়। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতেও মাটির তৈরি সামগ্রী কেনার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা। এছাড়া যাঁদের বাজেট কম, তাঁরা এদিন চাল, ঘি কিংবা নতুন লাল রঙের বস্ত্র কিনতে পারেন। বিশ্বাস রাখা হয় যে, এদিন ভক্তিভরে লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজো করলে এবং এই সাধারণ জিনিসগুলো ঘরে আনলে গৃহস্থের আর্থিক অনটন দূর হয়।
সোনা কেনার শুভ সময়
যাঁরা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন বা যাঁদের সোনা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের জন্য ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে পরদিন ২০ এপ্রিল ভোর ৫টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত সময়টি সেরা। তবে ১৯ তারিখ বিকেলের দিকে অর্থাৎ ‘সায়ংকালীন মুহূর্তে’ কেনাকাটা করা সবচেয়ে ফলদায়ক হতে পারে।
অক্ষয় তৃতীয়া মানে বিলাসিতা নয়, এটি হল বিশ্বাসের উৎসব। তাই সাধ্যমতো ছোট কোনও জিনিস কিনেই মা লক্ষ্মীকে আবাহন করতে পারেন আপনিও।