
সকালবেলা একঝাঁক পাখির কলকাকলিতে কার না মন ভালো হয়? অনেকেই শখ করে বা মায়ার খাতিরে ছাদে কিংবা বারান্দায় পাখিদের জন্য খাবার ছড়িয়ে দেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই অতি সাধারণ একটি অভ্যাসই হয়ে উঠতে পারে ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি? জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, পাখিদের খাওয়ানো কেবল পুণ্যের কাজই নয়, জন্মছকের বড় বড় গ্রহের গেরো কাটানোর অব্যর্থ দাওয়াই। তবে কোন গ্রহের জন্য কোন দানা দেবেন, তা না জানলে কিন্তু হিতে বিপরীতও হতে পারে।
কোন দানা দেবে কোন ফল?
জ্যোতিষ মতে, গ্রহের অশুভ দশা কাটাতে নির্দিষ্ট কিছু শস্য ব্যবহার করা জরুরি:
যদি বুদ্ধিতে জট পড়ে বা ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়, তবে পাখিদের রোজ ভেজানো মুগ ডাল বা সবুজ দানা খাওয়ান। এতে বুধ গ্রহ শক্তিশালী হয় এবং উপস্থিত বুদ্ধি বাড়ে।
যাদের বিবাহের যোগ আসছে না বা ভাগ্য সহায় হচ্ছে না, তারা পাখিদের ছোলা বা হলুদ রঙের শস্য দিতে শুরু করুন। বৃহস্পতি তুষ্ট হলে ভাগ্যোন্নতি নিশ্চিত।
জীবনে হঠাৎ আসা বিপদ বা মানসিক অস্থিরতা কমাতে পাখিদের বাজরা বা সাত রকমের শস্য (সপ্তধান্য) মিশিয়ে খাওয়ানো প্রয়োজন।
শনির কুনজর এড়াতে কালো তিল বা সর্ষের তেল মাখানো রুটি পাখিদের দিন। এতে সংসারের ওপর থেকে অশুভ ছায়া সরে যায়।
অফিস বা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি চাইলে প্রতিদিন সূর্যোদয়ের পর পাখিদের গম খেতে দিন। এতে সম্মান ও প্রতিপত্তি দুই-ই বাড়ে।
সঠিক নিয়ম কি জানেন?
খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু সূক্ষ্ম নিয়ম। শাস্ত্র বলছে, খাঁচায় বন্দি পাখিকে খাওয়ানোর চেয়ে মুক্ত পাখিকে খাওয়ানো অনেক বেশি শুভ। বন্দি পাখি আপনার ভাগ্যে নতুন বাধার সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ভোরবেলা বা সূর্যোদয়ের ঠিক পরেই এই কাজটি সারতে পারেন।
খাবার দেওয়ার জন্য মাটির পাত্র ব্যবহার করা সবচেয়ে শুভ। শুধু খাবার দিলেই হবে না, পাশে একটি মাটির পাত্রে পরিষ্কার জলও রাখুন। জ্যোতিষ মতে, পাখিকে জল খাওয়ানো রাহু ও মঙ্গলের প্রকোপ কমানোর ম্যাজিক টোটকা। তবে মনে রাখবেন, খাবার যেন পরিষ্কার ও টাটকা হয়। পচা বা বাসি দানা দিলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডানা মেলে উড়ে আসা পাখিদের তুষ্ট করতে পারলেই আপনার জীবনও ডানা মেলবে নতুন করে। ছোট্ট এই অভ্যাসেই সংসারের অশান্তি ঘুচে আসবে অফুরন্ত শান্তি বলে জানাচ্ছেন জ্যোতিষীরা।