
শারদীয়া দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ হল মহাঅষ্টমী। আর অষ্টমীর শুভ সকালে অঞ্জলি দেওয়া বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আবেগ ও শ্রদ্ধার জায়গা। তবে অঞ্জলি দেওয়ার সময় কোন রঙের পোশাক পরা উচিত এবং দেবী দুর্গার প্রিয় রঙ কী, তা নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। শাস্ত্র এবং পুরাণ মতে, পুজোর দিনগুলোতে পোশাকের রঙ নির্বাচন শুধুমাত্র বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিবাচক শক্তির গভীর সম্পর্ক।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, মহাঅষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার জন্য লাল, হলুদ এবং বাসন্তী রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়।
লাল রঙ: লাল হল শক্তি, উৎসাহ এবং পরম পবিত্রতার প্রতীক। বিবাহিত নারীদের জন্য লাল পেড়ে সাদা শাড়ি বা সম্পূর্ণ লাল রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ।
হলুদ ও বাসন্তী রঙ: হলুদ ও বাসন্তী রঙ হল জ্ঞান, আনন্দ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। নতুন সূচনা ও মানসিক শান্তির জন্য অঞ্জলির সময় হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত ফলদায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টমীর দিন কালো, গাঢ় নীল বা ধুসর (ধোঁয়াটে) রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই শ্রেয়, কারণ শাস্ত্র মতে এই রঙগুলো নেতিবাচক শক্তি বা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পৌরাণিক কাহিনী ও ‘শ্রীশ্রীচণ্ডী’ অনুসারে, শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা হলেন তেজ ও রূপের সংমিশ্রণ। দেবীর প্রিয় রঙের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ পৌরাণিক ব্যাখ্যা:
১. লাল (শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক): দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুর বধের জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন, তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সহ সর্বদেবতার তেজ থেকে তাঁর সৃষ্টি হয়। দেবতারা দেবীকে রক্তবর্ণের বস্ত্র, লাল চন্দন এবং লাল জবা ফুলের মালা উপহার দিয়েছিলেন। লাল রঙ হল অসুরবিনাশী শক্তির প্রতীক। এই কারণে লাল রঙে দেবী সবচেয়ে বেশি প্রসন্ন হন।
২. হলুদ ও কাঁচা সোনার রঙ: দেবীর অপর নাম ‘মহাগৌরী’, যিনি মহাঅষ্টমীর দিনে পূজিতা হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, তপস্যার মাধ্যমে দেবী পার্বতী গৌরবর্ণ বা তপ্ত কাঞ্চনের (কাঁচা সোনার) মতো গাত্রবর্ণ লাভ করেছিলেন। হলুদ বা সোনালী রঙ শুভতা ও সমৃদ্ধির বার্তা বহন করে, যা দেবীর মহাগৌরী রূপের অত্যন্ত প্রিয়।
৩. সবুজ : দেবীর নবপত্রিকা বা ‘কলাবউ’ রূপে নয়টি উদ্ভিদের পুজো হয়, যা প্রকৃতির প্রতীক। তাই সবুজ রঙকেও দেবীর কৃপা লাভের উপযুক্ত বলে মনে করা হয়।