Durga Puja 2026: ২৪৮ বছরেও বদলায়নি প্রতিমার রং! মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোর বিশেষত্ব জেনে নিন

Mahishadal Rajbari Durga Puja 2026: মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস বহু পুরনো। ১৭৭৮ সালে রাজগড়ে এই পুজোর সূচনা করেন আনন্দলাল উপাধ্যায়ের সহধর্মিণী জানকী দেবী। পরবর্তী সময়ে রাজা জগন্নাথ গর্গ ও রানি ইন্দ্রানী দেবী নির্মাণ করেন পাকা দুর্গামন্দির। মন্দিরের সামনে তৈরি হয় নাটমন্দির ও চণ্ডীমণ্ডপ।

Durga Puja 2026: ২৪৮ বছরেও বদলায়নি প্রতিমার রং! মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোর বিশেষত্ব জেনে নিন
মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Oct 17, 2026 | 1:57 PM

মহিষাদল: সময় বদলেছে, বদলেছে পুজোর জৌলুসও। কিন্তু আজও অটুট রাজকীয় ঐতিহ্য। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো (Mahishadal Rajbari Durga Puja) মানেই ইতিহাস, আভিজাত্য আর প্রাচীন রীতিনীতির মেলবন্ধন। ১৭৭৮ সালে শুরু হয়েছিল পুজো। প্রায় আড়াইশো বছর পরেও সেই পুজো (Durga Puja 2026) ঘিরে রয়েছে মানুষের আবেগ। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব প্রতিমার গায়ের রং। এখানে দেবী দুর্গার গায়ের রং হলুদ, সিংহের রং সাদা আর অসুরের রং সবুজ। বংশপরম্পরায় সেই একই রীতি মেনে তৈরি হয়ে আসছে প্রতিমা।

রানির হাত ধরেই শুরু রাজবাড়ির দুর্গোৎসব

মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস বহু পুরনো। ১৭৭৮ সালে রাজগড়ে এই পুজোর সূচনা করেন আনন্দলাল উপাধ্যায়ের সহধর্মিণী জানকী দেবী। পরবর্তী সময়ে রাজা জগন্নাথ গর্গ ও রানি ইন্দ্রানী দেবী নির্মাণ করেন পাকা দুর্গামন্দির। মন্দিরের সামনে তৈরি হয় নাটমন্দির ও চণ্ডীমণ্ডপ। শুধু পুজো নয়, সংস্কৃতিচর্চারও অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল রাজবাড়ি। রাজা গোপালপ্রসাদ গর্গ সেখানে কাঠের থিয়েটার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

প্রতিমাতে বিশেষত্ব

মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ এখানকার প্রতিমা। বছরের পর বছর ধরে নির্দিষ্ট রীতি মেনেই তৈরি হয় দেবীমূর্তি। দেবীর গায়ের রং হলুদ, বাহন সিংহ ধবধবে সাদা এবং অসুরের গায়ের রং সবুজ। প্রতিমা তৈরির দায়িত্বও রয়েছে একটি নির্দিষ্ট শিল্পী পরিবারের হাতে। শিল্পী গোপাল ভুঁইয়ার পরিবার বংশপরম্পরায় রাজবাড়ির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। প্রজন্ম বদলালেও প্রতিমা নির্মাণের সেই প্রাচীন রীতি আজও বজায় রয়েছে।

পুজোয় ভোগ

একসময় মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় ভোগের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো। পুজোর তিথি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল নেওয়া হয়। সপ্তমীতে সাত মণ, অষ্টমীতে আট মণ এবং নবমীতে নয় মণ চালের ভোগ প্রস্তুত করা হত। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এই নিয়ম চালু ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই প্রথায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোগ রান্না করা হয়।

সন্ধিপুজোয় তোপধ্বনি, বিসর্জনেও বদলেছে রীতি

একসময় মহিষাদল রাজবাড়ির সন্ধিপুজোর অন্যতম আকর্ষণ ছিল তোপধ্বনি। সন্ধিপুজোর সন্ধিক্ষণে তোপের গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠত রাজবাড়ি চত্বর। তবে এখন আর সেই প্রথা চালু নেই। পরিবর্তন এসেছে প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও। আগে রাজবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত রূপনারায়ণ নদে। বর্তমানে সেই নিরঞ্জন হয় সাহেব দিঘিতে।

পুজোর কয়েকটি দিন রাজপরিবারের সদস্যরা ফুলবাগ প্যালেসে থাকেন। পুরনো দিনের রাজকীয় আড়ম্বর অনেকটাই কমেছে। হারিয়ে গিয়েছে তোপধ্বনির মতো কিছু প্রথাও। কিন্তু আজও মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো তার স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us