
নতুন বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনার পর অশুভ দৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই নানা টোটকার সাহায্য নেন। ঠিক তেমনই, সাধারণ মানুষের জীবনেও নতুন বাড়ি তৈরি কিংবা সাধের গাড়িটি গ্যারেজে আনার পর তার সামনে একটা কালো মুখোশ বা লেবু-লঙ্কা ঝুলিয়ে দেওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত চেনা। সনাতন ধর্মে এবং লোকবিশ্বাসে এটিকে এটিকে কুনজর কাটানোর কবচ বা অশুভ দৃষ্টি প্রতিরোধের উপায় বলা হয়ে থাকে। অনেকেই হয়তো একে স্রেফ কুসংস্কার বা প্রাচীন অন্ধবিশ্বাস বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই চেনা আচারের পেছনে জ্যোতিষ ও বাস্তু শাস্ত্রের এক গভীর আধ্যাত্মিক এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা লুকিয়ে রয়েছে?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কুনজর কাটানোর কবচ আসলে এক ধরণের শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ। এটি চারপাশের নেতিবাচক বা অশুভ শক্তিকে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে সোজা বাধা দেয়। সাধারণত বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য মাটি, প্লাস্টিক কিংবা ধাতু দিয়ে তৈরি একটি রাক্ষসের মুখোশ বেছে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাস্তাঘাটের বিপদ ও অশুভ দৃষ্টি এড়াতে গাড়ির সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় ছোট কালো কাপড়ের মুখোশ কিংবা তাজা লেবু-লঙ্কার টোটকা।
কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, কালো রঙের একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে, যা যেকোনও ধরনের আলোক রশ্মি বা তরঙ্গকে দ্রুত নিজের মধ্যে শোষণ করে নিতে পারে। ঠিক এই কারণেই প্রাচীন কাল থেকে ক্ষতিকর এনার্জি নষ্ট করতে কালো টিপ, কালো সুতো বা কালো উপাদানের ব্যবহার চলে আসছে। এটি আসেপাশের মানুষের মনের অবচেতন হিংসা বা নেতিবাচক ভাবকে নিজের মধ্যে টেনে নিয়ে ভস্ম করে দেয়।
কুনজর কাটানোর কবচ ব্যবহারের আরেকটি বড় মনস্তাত্ত্বিক কারণ হল মানুষের আকস্মিক তীব্র মনোযোগকে মূল বস্তু থেকে সরিয়ে দেওয়া। যখনই কেউ কোনও সুন্দর নতুন বাড়ি বা চকচকে গাড়ির দিকে তাকায়, তখন তার প্রথম দৃষ্টিটি সরাসরি ওই অদ্ভুত বা কুৎসিত মুখোশটির ওপর গিয়ে পড়ে। এর ফলে মূল জিনিসটি মারাত্মক নজর দোষের হাত থেকে বেঁচে যায়।
বাস্তু শাস্ত্রের মূল ভিত্তিই হল ঘরের ভেতরের এনার্জি ফিল্ডের ভারসাম্য বজায় রাখা। বাড়ির মূল দরজাই যেহেতু সমস্ত শক্তির যাতায়াতের প্রধান পথ, তাই গৃহপ্রবেশের সময় সেখানে এই প্রতিষেধক ঝোলালে বাড়ির পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। একইভাবে, নতুন গাড়িকে দুর্ঘটনা ও হঠাৎ আসা নানাবিধ যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে দূরে রাখতে চাকার নিচে লেবু পিষে নেওয়া বা পেছনে কালো সুতো বাঁধার চল রয়েছে।
আধুনিক বিজ্ঞান অবশ্য এই নজর দোষকে সরাসরি স্বীকৃতি দেয় না, একে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বলেই গণ্য করে। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কুনজর কাটানোর এই সমস্ত টোটকা ব্যবহারের ফলে মানুষের মনে এক ধরণের গভীর আত্মবিশ্বাস ও সুরক্ষার অনুভূতি তৈরি হয়। আর এই ইতিবাচক মানসিক তৃপ্তিই মানুষের জীবনে শুভ প্রভাব নিয়ে আসে এবং আশঙ্কার হাত থেকে মুক্তি দেয়।