
সাদা বা লাল চন্দন (Sandalwood) মানেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি। মন্দিরের গর্ভগৃহ হোক বা বাড়ির ঠাকুরঘর, চন্দনের সুগন্ধ মনকে মুহূর্তেই আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে জুড়ে দেয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই পবিত্র কাঠ কেবল সুগন্ধি বা পুজোর উপকরণ নয়, আপনার জীবনের থমকে যাওয়া ভাগ্যকেও গতিশীল করতে পারে? শাস্ত্র বলছে, আমাদের চারপাশে থাকা নেতিবাচক শক্তিকে দূর করে জীবনের ছন্দ ফেরাতে চন্দনের জুড়ি মেলা ভার।
কীভাবে এই চন্দন আপনার দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলতে পারে আরও বেশি ইতিবাচক? দেখে নিন সেই সাতটি সহজ ও আধ্যাত্মিক উপায়।
১. যাঁদের মন সারাক্ষণ অশান্ত থাকে কিংবা অল্পতেই মেজাজ হারান, তাঁদের জন্য চন্দন এক মহৌষধ। প্রতিদিন সকালে কপালে বা গলায় সামান্য সাদা চন্দনের তিলক লাগান। এটি আপনার কুণ্ডলীতে চন্দ্রের অবস্থানকে শীতল রাখে, ফলে সারাদিন আপনি এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি অনুভব করবেন।
২. বৃহস্পতিবার মানেই গুরু অর্চনার দিন। এই দিন কপালে লাল বা সাদা চন্দনের টিকা লাগালে জ্ঞানের কারক গ্রহ বৃহস্পতি তুষ্ট হন। জীবনে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে এই নিয়ম পালন করলে সাফল্যের পথ অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়।
৩. শাস্ত্রমতে শুক্রবার মানেই তো সৌন্দর্যের দেবী আর প্রেমের গ্রহ শুক্রের আরাধনা। স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা চন্দন তেল বা চন্দন ঘষা জল মিশিয়ে স্নান করুন। এতে আপনার ব্যক্তিত্বে এক আকর্ষণীয় টান আসবে এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন মুছে গিয়ে ভালোবাসার সঞ্চার হবে।
৪. ঘরের পরিবেশ গুমোট লাগছে? কোনও এক বৃহস্পতিবার এক টুকরো চন্দনকাঠ কিনে মা লক্ষ্মীর পায়ে ছুঁইয়ে নিন। পরের দিন সেই পবিত্র কাঠটি লাল কাপড়ে মুড়ে সদর দরজার ওপরে ঝুলিয়ে দিন। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে বাইরের কোনো খারাপ ছায়া বা অশুভ শক্তি আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না।
৫. আর্থিক টানাটানি দূর করতে লাল চন্দন খুবই কার্যকরী। মা লক্ষ্মীর আরাধনার সময় একটি চন্দনকাঠ তাঁর চরণে রেখে দিন। পুজো শেষে সেই আশীর্বাদী কাঠটি আপনার আলমারি বা সিন্দুকের ভেতর পবিত্রভাবে রাখুন। এতে শ্রীবৃদ্ধি হয় এবং অর্থের অপচয় কমে।
৬. বাড়ির ছোট সদস্যদের ওপর খুব তাড়াতাড়ি বাইরের নজর লাগে। তাদের কপালে চন্দনের একটি ছোট্ট ফোঁটা পরিয়ে রাখা কেবল একটি প্রথা নয়, এটি আসলে তাদের চারপাশে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। শাস্ত্র বলছে, চন্দনের ছাল পুড়িয়ে তার ধোঁয়া ঘরে দিলে অশুভ নজরদোষ নিমেষেই কেটে যায়।
৭. বাস্তুদোষের কারণে জীবনে উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তবে চন্দনের গুঁড়ো, অশ্বগন্ধা ও কর্পূর দিয়ে যজ্ঞ বা হোম করা অত্যন্ত শুভ। টানা ৪০ দিনের এই আধ্যাত্মিক অভ্যাস আপনার গৃহকোণকে মন্দিরের মত পবিত্র করে তুলবে।