Tarapith Temple: এক মাস গর্ভগৃহে থাকবেন না মা তারা, তারাপীঠে পুজো দেবেন কোথায়?
Tarapith Temple Renovation: কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথি মিটতেই তারাপীঠ মন্দিরে বড়সড় রদবদল! দীর্ঘ এক মাসের জন্য নিজের চিরপরিচিত গর্ভগৃহ থেকে সরানো হল মা তারাকে। কিন্তু কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিল মন্দির কর্তৃপক্ষ? তবে কি এই এক মাস পুজো বা দর্শনে ভক্তদের জন্য কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকছে? এই ক'দিন কোথায় গেলে মিলবে মায়ের দেখা?

তারাপীঠ (Tarapith) বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল চেলিতে মোড়া মা তারার স্নিগ্ধ রূপ। সদ্য কেটেছে কৌশিকী অমাবস্যা। পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল মন্দির চত্বরে। কিন্তু এবার ভক্তদের জন্য রয়েছে একটি বড় খবর। আগামী প্রায় এক মাসের জন্য নিজের চিরপরিচিত মূল গর্ভগৃহে থাকছেন না মা তারা। তাহলে কি এই কয়েকদিন পুজো দেওয়া বন্ধ থাকবে? দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা কীভাবে মায়ের দর্শন পাবেন? এই নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই, মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের সুবিধার্থে সব ব্যবস্থা করে রেখেছে।
কোথায় থাকছেন মা তারা?
১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার পর থেকেই শুরু হয়েছে এই বদল। মা তারার বিগ্রহকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সযত্নে মন্দির চত্বরের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে চলবে মন্দিরের সংস্কারের কাজ। আর এই গোটা সময়টা শিবমন্দিরেই অধিষ্ঠান করবেন দেবী। মহালয়ার আগের রাতে ফের তিনি ফিরে যাবেন নিজের মূল মন্দিরে।
পুজো বা দর্শনে কি বাধা আসবে?
পুজো বন্ধ থাকার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা একেবারেই অমূলক। মন্দির সংস্কার হলেও মায়ের পুজো এক দিনের জন্যও বন্ধ হচ্ছে না। শিবমন্দির থেকেই নিয়ম মেনে রোজকার পুজো, আরতি এবং ভোগ নিবেদন চলবে। ভক্তরা আগের মতোই মায়ের দর্শন করতে পারবেন। তবে শিবমন্দিরে ঢোকার জন্য একটি মাত্র গেট রয়েছে। তাই ভিড় সামলাতে আগের তুলনায় পুজো দিতে ভক্তদের হয়তো একটু বেশি সময় লাগতে পারে। তবে পুজোতে একেবারেই বাধা নেই।
কেন এই সংস্কার? কী কী বদল আসছে?
কৌশিকী অমাবস্যার পরেই ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনে শুরু হয়েছে এই সংস্কার পর্ব। মন্দিরের ভিতর এবং বাইরে, দুই জায়গাতেই জোরকদমে কাজ চলছে। মূলত ভক্তদের সুবিধার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্কারের পর যে বদলগুলো চোখে পড়বে:
উঁচু দরজা: নাটমন্দির থেকে মায়ের রূপ দেখতে অনেক সময় ভক্তদের অসুবিধা হত। সেই সমস্যা মেটাতে মন্দিরের সামনের দরজা প্রায় এক ফুট উঁচু করা হচ্ছে।
উঁচু বেদি: মায়ের মূল বেদিটিও প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করা হচ্ছে। এর ফলে এবার থেকে নাটমন্দির থেকেই মা তারাকে আরও পরিষ্কারভাবে দর্শন করতে পারবেন সবাই।
নতুন সাজ: এর সঙ্গেই নতুন করে রং করা হচ্ছে গোটা মন্দির। টেরাকোটার পুরনো কাজগুলোতেও নতুন ছোঁয়া লাগছে।
সব মিলিয়ে এক মাস পর সম্পূর্ণ নতুন রূপে সেজে উঠবে তারাপীঠ। মায়ের দর্শনের অভিজ্ঞতাও আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ হবে।
