
হিন্দু ধর্মে গঙ্গার জল বা গঙ্গাজল কেবল পবিত্রতার প্রতীক নয়, এটি বাড়ির ইতিবাচক শক্তির অন্যতম উৎস। পূজা-পার্বণ থেকে শুরু করে যে কোনও শুভ কাজে গঙ্গা জলের ব্যবহার অপরিহার্য। প্রায় প্রতি ঘরেই গঙ্গাজল সযত্নে রাখা থাকে। কিন্তু জানেন কি, অত্যন্ত ভক্তিভরে রাখা এই জলই কখনও কখনও আপনার সংসারে অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে? বাস্তুশাস্ত্র বলছে, গঙ্গাজল রাখার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সামান্য ভুলে হিতে বিপরীত হতে পারে, যার ফলে দেখা দিতে পারে চরম আর্থিক সংকট বা পারিবারিক অশান্তি।
প্লাস্টিকের পাত্রে গঙ্গাজল নয়!
আজকাল বাজার থেকে অনেকেই গঙ্গাজল কেনেন যা থাকে প্লাস্টিকের বোতলে। অনেকেই সেই অবস্থাতেই ঠাকুরের আসনে বা বাড়ির অন্য কোথাও রেখে দেন। বাস্তুবিদদের মতে, এটি সবথেকে বড় ভুল। প্লাস্টিককে বাস্তুশাস্ত্রে অশুভ এবং অশুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়। গঙ্গাজল কখনওই প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত নয়। এতে জলের পবিত্রতা যেমন নষ্ট হয়, তেমনই পরিবারের কর্তার ওপর আর্থিক ঋণের বোঝা বাড়তে পারে। এর পরিবর্তে তামা, পিতল বা রুপোর পাত্রে গঙ্গাজল রাখা শ্রেয়। এতে গৃহের সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
আপনার বাড়ি বা ফ্ল্যাটে গঙ্গাজল ঠিক কোন দিকে রাখা আছে, তার ওপর নির্ভর করে আপনার ভাগ্য। বাস্তু মতে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা ঈশান কোণ হল দেবস্থান। গঙ্গাজল রাখার জন্য এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গা। ভুল করেও অন্ধকার বা ধুলোবালি জমে থাকে এমন কোনও স্থানে পবিত্র এই জল রাখবেন না। এতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে এবং উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি হয়
যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে ঋণের জালে জড়িয়ে থাকেন বা সংসারে অভাব লেগেই থাকে, তবে বাস্তুশাস্ত্র একটি সহজ উপায়ের কথা বলে। একটি পিতলের ঘটিতে গঙ্গাজল ভরে তা বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিকে স্থাপন করুন। এটি মানসিক অস্থিরতা কমাতেও ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এছাড়া, প্রতি শনিবার স্নান সেরে সারা বাড়িতে একটু করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। মনে করা হয়, এর ফলে অশুভ ছায়া দূর হয় এবং দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।
পরিবারে তুচ্ছ কারণে অশান্তি বা অশুভ নজর থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সকালে বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে অল্প গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এটি নেতিবাচক প্রভাব কাটানোর জন্য ‘বর্ম’ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ব্যবসা বা কর্মক্ষেত্রে যদি কাজের গতি থমকে যায়, তবে সেখানে সামান্য গঙ্গাজল রাখা একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
যে ঘরে গঙ্গাজল রাখা হয়, সেখানে শুদ্ধতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভুলেও সেই ঘরে আমিষ খাবার বা মদ্যপান করা উচিত নয়। এটি অত্যন্ত বড় বাস্তুত্রুটি হিসেবে ধরা হয়। যারা এই নিয়ম মানেন না, তাদের সংসারে চরম দারিদ্র্য নেমে আসতে পারে। মনে রাখবেন, সঠিক নিয়ম ও শ্রদ্ধাভরে গঙ্গাজল রাখলে তা কেবল আপনার ঘরকেই পবিত্র করে না, বরং আপনার জীবনের মোড়ও ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন বাস্তুবিদরা।