
নতুন বাড়ি কিনছেন বা ভাড়া নিচ্ছেন? শখ করে সাজানো অন্দরমহল আর দক্ষিণ খোলা জানলা দেখেই কি তবে বিমোহিত হয়ে পড়লেন? একটু দাঁড়ান! বাড়ির ভেতরটা দেখার পাশাপাশি এবার একটু বাইরের দিকেও নজর দিন। প্রধান দরজার ঠিক সামনেই কি কোনও বড় ইলেকট্রিক খুঁটি বা বিদ্যুতের তারের জটলা রয়েছে? যদি থাকে, তবে বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী কিন্তু আপনার সংসারে বড়সড় ‘ভিলেন’ হয়ে উঠতে পারে এই সাধারণ খুঁটিটি বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির একদম প্রবেশপথের সামনে বিদ্যুতের খুঁটি থাকা অত্যন্ত অশুভ। এটি ঘরের পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তির পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে কোনও কারণ ছাড়াই সংসারে শুরু হতে পারে অশান্তি, খিটখিটে মেজাজ আর শরীর-স্বাস্থ্যের অবনতি।
খুঁটি থাকলে ঠিক কী কী বিপদ হতে পারে?
সদর দরজার সামনের খুঁটিটি আপনার ক্যারিয়ার বা ব্যবসার গ্রাফে আচমকা ব্রেক কষে দিতে পারে। শত পরিশ্রমেও পদোন্নতি আটকে যাওয়া বা ব্যবসায় মন্দা আসতে পারে।
বাড়ির প্রবেশপথ দিয়েই লক্ষ্মী এবং শুভ শক্তি ঘরে ঢোকে। সেখানে যদি বিদ্যুতের খুঁটি থাকে, তবে সেই প্রবাহ বাধা পায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবারের সদস্যদের শরীরের ওপর।
বিশ্বাস করা হয় যে, বাড়ির সামনে এমন বাধা থাকলে তার নেতিবাচক প্রভাব সন্তানদের ওপর পড়ে। পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো বা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বার বার বাধা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
খুঁটি তো সরানো সম্ভব নয়, তবে উপায়?
শহর বা গ্রামে সরকারি ইলেকট্রিক খুঁটি রাতারাতি সরিয়ে ফেলা অসম্ভব। তবে বাস্তুশাস্ত্রে এর কিছু সহজ এবং কার্যকর প্রতিকার রয়েছে, যা অশুভ প্রভাবকে অনেকটাই কাটিয়ে দিতে পারে:
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, খুঁটির মাথায় যদি পাখিরা বাসা বাঁধে, তবে সেই খুঁটির নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।
নেতিবাচক শক্তি তাড়াতে আয়নার জুড়ি নেই। দরজার সামনে একটি কাঠের ফ্রেমের অষ্টভুজাকৃতি আয়না এমন ভাবে লাগান, যাতে খুঁটির প্রতিচ্ছবি আয়নায় পড়ে আবার প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়।
শুভ কাজে সবসময় আমপাতা ব্যবহার করা হয়। দরজার ওপরে টাটকা আমপাতার তোরণ শুধু পবিত্রতাই আনে না, এটি নেতিবাচক শক্তিকেও আটকে দেয়।
খুঁটি এবং সদর দরজার মাঝখানে যদি বড় ও ঘন পাতার গাছ লাগানো যায়, তবে তা একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
দরজার সামনে উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখুন এবং সদর দরজায় সিঁদুর দিয়ে ‘ওঁ’ বা ‘স্বস্তিক’ চিহ্ন আঁকুন। এতে অশুভ শক্তির প্রবেশ রুদ্ধ হয়।
তাই ঘর সাজানোর আগে বাস্তুর এই ছোট ছোট দিকগুলো মাথায় রাখলে সংসারে সুখ-শান্তি বজায় রাখা অনেকটাই সহজ হবে।