
সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটনির পর বিছানায় গা এলিয়ে দিলেও অনেক সময় দু’চোখের পাতা এক হতে চায় না। এপাশ-ওপাশ করেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। আবার অনেকটা সময় ঘুমানোর পর সকালে উঠলেও যেন ক্লান্তি কাটতে চায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক বিষয়। ঘরের পরিবেশ, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে বিছানার অবস্থান, সব কিছুরই প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, রাতে ঘুমানোর সময় মাথা কোন দিকে থাকছে, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাথার দিক ঠিক না থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
কী বলছেন বাস্তুবিদরা?
দক্ষিণ দিক
বাস্তু নিয়ম অনুযায়ী, ঘুমনোর জন্য সবচেয়ে সেরা দিক হল দক্ষিণ। মনে করা হয়, দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমালে শরীর ও মন খুব শান্ত থাকে। এর ফলে ঘুম অনেক গভীর হয়। তাই বেডরুমের খাট এমনভাবে সাজানো যেতে পারে, যাতে শোওয়ার সময় মাথাটা দক্ষিণ দিকে থাকে।
পূর্ব দিক
দক্ষিণের পরেই ঘুমানোর জন্য ভালো দিক হল পূর্ব দিক। বাস্তু মতে, পূর্ব দিকে প্রচুর ইতিবাচক শক্তি থাকে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী বা যাঁরা প্রচুর মানসিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের পূর্ব দিকে মাথা রেখে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে সকালে ওঠার পর মন একদম তরতাজা থাকে এবং কাজেও মনোযোগ বাড়ে।
পশ্চিম ও উত্তর
পশ্চিম দিকে মাথা রেখে ঘুমানোর বিষয়ে বাস্তুতে কড়া কোনও নিষেধ নেই। ঘরের জায়গা কম থাকলে অনেকেই এই দিকটি বেছে নেন। তবে উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমাতে একেবারেই বারণ করেন বাস্তুবিদরা। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, উত্তরে মাথা রাখলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
তবে শুধু দিক বদলালেই যে সব মুশকিল আসান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। ভালো ঘুমের জন্য ঘর শান্ত রাখা, ঘরের আলো কমিয়ে দেওয়া এবং রাতে শোওয়ার আগে মোবাইল না ঘাঁটার মতো সাধারণ নিয়মগুলো মানাও সমান জরুরি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাস্তুশাস্ত্রের এই নিয়মগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত বিশ্বাস ও প্রাচীন ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। শারীরিক কোনও সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।