
গ্রীষ্মের প্রখর দাপট শুরু হতেই অন্দরমহলে এক অনাহূত অতিথির আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে । ঘরের সিলিং হোক বা আলমারির আড়ালে-চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে মাকড়সার জাল (Spider Web)। অনেকেই একে নিছক ধুলোবালি ভেবে ঝাড়ু দিয়ে উড়িয়ে দেন। কিন্তু জানেন কি, আপনার এই অবহেলাই জীবনের বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে? বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, ঘরের কোণে জমে থাকা এই জাল কেবল ময়লা নয়, বরং নেতিবাচক শক্তির এক বিশাল আধার, যা আপনার সুখ-শান্তি কেড়ে নিতে পারে।
দিনের শেষে একটু শান্তির খোঁজে শোবার ঘরে যান সকলেই। কিন্তু সেই ঘরের কোণে যদি মাকড়সার জাল থেকে থাকে, তবে সাবধান! বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বেডরুমে মাকড়সার জাল থাকা মানেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অকারণ তিক্ততা। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া ঝগড়া কখন যে বড় আকার নেবে, তা আপনি ধরতেও পারবেন না। দাম্পত্য কলহ এড়াতে আজই পরিষ্কার করুন আপনার শোবার ঘর।
বাড়ির উঁচু দেওয়াল বা এমন কোণ যেখানে হাত পৌঁছায় না, সেখানে সচরাচর কেউই নজর দেন না। কিন্তু সেখানেই বাসা বাঁধে মাকড়সা। শাস্ত্র মতে, বাড়ির কোণে জালের উপস্থিতি আর্থিক উন্নতির পথ রোধ করে। এর ফলে উপার্জনের চেয়ে ব্যয়ের পাল্লা ভারী হতে শুরু করে এবং পরিবার ধীরে ধীরে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়তে পারে।
যেখানে স্বয়ং ঈশ্বর এবং অন্নপূর্ণার বাস, সেই ঠাকুরঘর ও রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা আবশ্যিক। ঠাকুরঘরে মাকড়সার জাল থাকা মানেই আপনার সৌভাগ্যে গ্রহণ লাগা। এতে পুজো-আর্চার সুফল পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, রান্নাঘরে জাল থাকলে তা কেবল বাস্তু নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। মাকড়সার জালে থাকা সূক্ষ্ম ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে বড় অসুখ ডেকে আনতে পারে।
নেতিবাচকতা কাটাবেন কীভাবে?
অশুভ প্রভাব কাটাতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন ঘর ঝাড়পোঁছ করার অভ্যাস করুন। জাল পরিষ্কার করার পর সেই ময়লা ঘরের বাইরে ডাস্টবিনে ফেলে দিন। এছাড়া ঘর থেকে অশুভ শক্তি ও পোকামাকড় দূর করতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ বা ধূপকাঠি জ্বালাতে পারেন। এই সামান্য টোটকাতেই দেখবেন, ঘরের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনেক বেশি ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত।