
দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি, অথচ মাস শেষে পকেটে টান? সব নিয়ম মেনেও সংসারে যেন উন্নতির ছোঁয়া লাগছে না? হয়তো আপনার অজান্তেই করা একটি ছোট ভুল রুষ্ট করছে মা লক্ষ্মীকে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, ঘর পরিষ্কার রাখা যেমন ভাগ্যের চাবিকাঠি, তেমনই পরিষ্কার করার হাতিয়ার অর্থাৎ ‘ঝাঁটা’ ব্যবহারের সময় বা নিয়ম না জানলে নেমে আসতে পারে চরম দারিদ্র্য। বিশেষ করে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর ঝাঁটা ছোঁয়ালে কেবল অর্থাভাব নয়, পিছু নিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী অশান্তিও। আপনার অজান্তেই কি দেবী লক্ষ্মীকে ঘর থেকে বিদায় করে দিচ্ছেন না তো? ভাগ্য ফেরাতে এবং পকেট ভর্তি রাখতে ঝাড় দেওয়ার সঠিক নিয়মটি জেনে নেওয়া জরুরি বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র।
কখন ঝাড় দেওয়া সবচেয়ে শুভ?
বাস্তুবিদ এবং শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ঘর পরিষ্কার করার শ্রেষ্ঠ সময় হল ‘কাকভোর’। সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্য ওঠার ঠিক মুহূর্ত পর্যন্ত ঘর ঝাড় দেওয়া অত্যন্ত মঙ্গলদায়ক। বিশ্বাস করা হয়, ভোরের বাতাসে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ থাকে। এই সময়ে ঘর পরিষ্কার করলে রাতভর জমে থাকা নেতিবাচক শক্তি বা অলক্ষ্মী বিদায় নেয় এবং ঘরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কর্মক্ষেত্রে উন্নতির যোগ তৈরি হয়।
সূর্যাস্তের পর কেন ঝাঁটা ছোঁয়াবেন না?
সনাতন রীতি অনুযায়ী, সন্ধ্যাবেলা হল ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমনের সময়। আর সেই সন্ধিক্ষণে যদি কেউ ঘর ঝাড় দেয়, তবে তা দেবীকে অপমান করার শামিল বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র বলছে, সূর্যাস্তের পর ঝাড় দিলে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হয়ে গৃহত্যাগ করেন। এর ফলে কেবল যে পকেটে টান পড়ে তাই নয়, ঘরে নিত্য অশান্তি, সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বাসা বাঁধতে পারে।
তবে এই বিশ্বাসের পেছনে একটি চমৎকার ব্যবহারিক বা লজিক্যাল কারণও লুকিয়ে রয়েছে। আগেকার দিনে যখন বৈদ্যুতিক আলোর অভাব ছিল, তখন রাতে ঝাড়ু দিতে গিয়ে ধুলোবালির সঙ্গে ঘরের ছোটখাটো মূল্যবান অলঙ্কার বা দরকারি কাগজ অজান্তে জঞ্জালের সঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার ভয় থাকত। সেই ‘ধন’ হারানোর আশঙ্কা থেকেই প্রাচীন মুরুব্বিরা সন্ধ্যার পর ঝাড় দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী প্রথায় পরিণত হয়েছে।
ঝাড়ু রাখার কিছু জরুরি নিয়ম:
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ঝাঁটা কখনই খোলা জায়গায় বা সবার চোখের সামনে ফেলে রাখা উচিত নয়। ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের অর্থ বা গয়না আলমারিতে লুকিয়ে রাখি, ঝাড়ুকেও সেভাবেই কোনও আড়ালে বা নির্দিষ্ট স্থানে ঢেকে রাখতে হয়। এলোমেলো বা যত্রতত্র ঝাড়ু পড়ে থাকলে তা পরিবারের আর্থিক স্থিতিশীলতায় বড়সড় আঘাত হানে। এছাড়া ঝাড়ু সবসময় শুইয়ে রাখা উচিত, দাঁড় করিয়ে রাখা বাস্তুমতে অশুভ।