Elephant Treatment at Vantara: বন্যায় ভেসে গিয়েছিল জয়মতী, শরীর জুড়ে এখন অসংখ্য ক্ষত, বিমানে চেপে ভান্তারায় যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য
Joymoti elephant rescued: জুলাইয়ের অসমের ভয়াবহ বন্যায় নাগাল্যান্ডে ভেসে গিয়েছিল জয়মতী। স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করা হলেও শরীরজুড়ে একাধিক গুরুতর ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য এবার তাকে বিমানে করে গুজরাটের জামনগরের ভান্তারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জামনগর: অসমের ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। শুধু মানুষই নয়, বন্যার জলে ভেসে গিয়েছিল ৫৩ বছরের স্ত্রী হাতি জয়মতী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা চলছিল তার। কিন্তু একাধিক গভীর ক্ষত, চোখের গুরুতর সমস্যা এবং পুরনো পায়ের চোটের কারণে এবার জয়মতীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানে করে গুজরাটের জামনগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ভান্তারার বিশেষ হাসপাতাল, যা হাতিদের জন্য তৈরি, তাতে তাঁর চিকিৎসা হবে।
জানা গিয়েছে, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে নাগাল্যান্ডে বন্যার জলে ভেসে যায় জয়মতী। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে। বন্যার সময় শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর চোট লাগে জয়মতীর। কপাল, ডান কান, লেজের উপরের অংশ, বাঁ পিছনের পায়ের উরুর ভিতরের দিক এবং পেটে ক্ষত তৈরি হয়। এমনকী, যৌনাঙ্গের আশপাশেও গভীর ক্ষত রয়েছে, যেখানে পোকা ধরে গিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, জয়মতীর ডান চোখও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই চোখে বর্তমানে দেখতে পায় না সে। চোখ দিয়ে ক্রমাগত জল পড়ছে। এর পাশাপাশি, বাঁ পিছনের পায়ে রয়েছে পুরনো চোট। অতীতে কাঠ টানার সময় ওই পায়ের হাড় ভেঙেছিল। সেই কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হয় তাঁর। ফলে খাবার ও জল সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে জয়মতীর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। ক্ষত পরিষ্কার করে ড্রেসিং করা, ব্যথার ওষুধ, মাল্টি-ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট-সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে বয়স, একাধিক গুরুতর ক্ষত এবং পুরনো শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁর আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
কেন বিমানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জয়মতীকে?
দীর্ঘ সড়কপথে সফর করলে জয়মতীর শারীরিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই যাত্রার সময় কমিয়ে, দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিমানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রার আগে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিমানে তোলা এবং পুরো যাত্রাপথে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হবে।
ভান্তারায় পৌঁছনোর পর জয়মতীর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। তাঁর শরীরের ক্ষত, চোখের সমস্যা এবং পুরনো পায়ের চোটের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পুষ্টি ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
ভারতে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ-
চিকিৎসার জন্য কোনও হাতিকে বিমানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ভারতে প্রথম ধরনের উদ্যোগ। এত বড় প্রাণীকে নিরাপদে বিমানে পরিবহণের জন্য চিকিৎসা, পশু পরিচর্যা সংক্রান্ত ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন পড়ে। জয়মতীর ক্ষেত্রে যাত্রার আগে শারীরিক পরীক্ষা, বিমানযাত্রার প্রস্তুতি, বিমানে ওঠানো, যাত্রার সময় নজরদারি এবং হাসপাতালে পৌঁছনোর পর নিরাপদে নামানোর মতো প্রতিটি ধাপেই বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
অসমেই তৈরি হতে পারে বিশেষ হাতি চিকিৎসাকেন্দ্র-
জয়মতীর ঘটনা আরও একবার সামনে এনেছে অসমে বন্যপ্রাণীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা। বন্যা, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত বা অন্য কোনও ঘটনায় আহত হাতিদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে স্থানীয় স্তরে বিশেষ হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। এই কারণে অসমে তিনটি বন্যপ্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে ভান্তারা। এর মধ্যে একটি কেন্দ্র শুধুমাত্র হাতিদের জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রজাতি অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞদের অধীনে পশুচিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলি অসম বন দফতরের অধীনেই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অসমের আহত হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে স্থানীয়ভাবেই উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে এবং চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমবে।
স্থায়ীভাবে ভান্তারায় থাকছে না জয়মতী-
জয়মতীকে স্থায়ীভাবে ভান্তারায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্যই তাঁকে সেখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। আপাতত তাঁর দ্রুত চিকিৎসা এবং সুস্থ হয়ে ওঠাই প্রধান লক্ষ্য। জয়মতীর এই ঘটনা যেমন বন্যপ্রাণীর জন্য স্থানীয় স্তরে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, তেমনই গুরুতর অসুস্থ বা আহত প্রাণীদের দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
