
যার জন্য পরিচিতি, সেটাকেই যদি কেউ অবহেলা করে? ভারতীয় ক্রিকেটে যেন এই প্রশ্নটাই উঠে আসছে এখন। অনেক প্লেয়ারই ফিট থাকা সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন না। কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে যেটুকু খ্যাতি তৈরি হয়, তা ভাঙিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করেন। অনেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট বেছে নেন। কালেভদ্রে ওডিআই খেলেন। হাতে গোনা কিছু প্লেয়ারকেই দেখা যায় রঞ্জি ট্রফি খেলতে। কিছু প্লেয়ারের উপর ক্ষুব্ধ বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্ট। সে বিষয়েই মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁকে সমর্থন করেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর। বিস্তারিত জেনে নিন TV9 Bangla Sports-এর এই প্রতিবেদনে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট স্কোয়াডে ছিলেন ঈশান কিষাণ। টেস্টে তাঁরই খেলার কথা ছিল। মানসিক কারণে বোর্ডের থেকে ছুটি নেন। তাঁর ছুটি মঞ্জুরও হয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ফেরেননি। দলে ফিরতে হলে, রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে হবে, এমন নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের নির্দেশ অমান্য করেন ঈশান কিষাণ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের পর শ্রেয়স আইয়ারও চোটের কারণে ছিটকে যান। যদিও সেই চোট যে গুরুতর ছিল না, জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির তরফেই তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারপরও রঞ্জিতে খেলেননি। অবশেষে সেমিফাইনালে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ঘরোয়া লাল-বলের ক্রিকেট খেলে টেস্ট স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া যায়, সরফরাজ খান, রজত পাতিদার, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপরা এর অন্যতম উদাহরণ। প্রত্যেকের কাছে এমন দায়বদ্ধতাই প্রত্যাশা করছেন সুনীল গাভাসকর। রাঁচি টেস্ট জিতে অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছিলেন, ‘যাদের খিদে রয়েছে, তাদেরই সুযোগ দেওয়া হবে।’ ক্যাপ্টেনের সমর্থনে সুনীল গাভাসকর স্পোর্টসতকে বলেন, ‘রোহিত একদম ঠিক কথা বলেছে। যারা এই ফরম্যাটে খেলতে চায়, তাদের দিকেই নজর দেওয়া উচিত। বহুদিন থেকেই এটা বলে আসছি। প্লেয়াররা যে পরিচিতি পেয়েছে, সেটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যই। সুতরাং, দেশের ক্রিকেটের জন্য কিছুটা দায়বদ্ধতা তো প্রত্যাশিত থাকবে।’
পিতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন বিরাট কোহলি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে তিনি ফিরবেন কিনা, নিশ্চিত নয়। গত কাল রাঁচিতে একটি অনুষ্ঠানে কোহলিকেও খোঁচা দিয়েছিলেন। টেস্ট সিরিজে না খেললেও আইপিএলে হয়তো দেখা যাবে কোহলিকে। সেই প্রসঙ্গেই কিছুটা বিদ্রুপের সুরেই বলেছিলেন, ‘ও তো খেলছে না, হয়তো আইপিএলেও খেলবে না।’