
কলকাতা : ৫০ এর গণ্ডি ছুঁয়েই সেই আঙ্গুল দেখিয়ে চিরাচরিত সেলিব্রেশন। পাশে দাঁড়িয়ে অভিবাদন দিচ্ছেন সতীর্থ। তাঁর রানে ফেরা নিয়ে চর্চায় ছিল আসমুদ্রহিমাচল। তিনি, অভিষেক শর্মা রানে শুধু ফিরলেন না, ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন, শুধু একটু খারাপ সময় চলছিল তাঁর। একসময় স্কোরবোর্ড দেখে মনে হচ্ছিল, আরামসে ৩০০ রান পার করবে ভারতের স্কোর। করল না, তার প্রধান কারণ শেষ চার ওভারে ভাল বোলিং করেছে নিউজিল্যান্ড।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্যান্টনার। তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণিত করে পাওয়ার-প্লে থেকেই ঝড় তোলা শুরু করেন অভিষেক ও সঞ্জু স্যামসন। ১৮ বলে অর্ধশতরান করলেন অভিষেক। ২১ বলে ৫২ রানে থামার আগে অভিষেকের সামনে হেনরি থেকে ডাফি – দাঁড়াতে পারেননি কেউই। যোগ্য সঙ্গত দিলেন সঞ্জু স্যামসন। সেমির পর আজ করলেন ৪৬ বলে ৮৯। এই নিয়ে ৩ ম্যাচ, রান এল কিন্তু শতরান এল না সঞ্জুর। সেমিফাইনাল ও আজ, দুই দিনেই মাত্র ১১ রানের জন্যও সেঞ্চুরি করতে পারলেন না সঞ্জু। ১০ ওভারের আগেই ১০০ রানের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছিল ভারত। অভিষেক আউট হলেও রানের গতি রেখেছিলেন ঈশান কিষান। আবার অর্ধশতরান করলেন ঈশান। ২৫ বলে ৫৪ রান করে ফিরলেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন মার্ক চ্যাপম্যান। ১৬তম ওভারে জিমি নিশাম একাই এক ওভারে আউট করলেন সঞ্জু, হার্দিক (১৮) ও সূর্যকে। আজ ১ বলে ০ করেই আউট হয়ে যান ভারত অধিনায়ক। এই নিয়ে গোটা বিশ্বকাপে একমাত্র আমেরিকা ম্যাচ বাদ দিয়ে ব্যর্থ অধিনায়ক। শেষ ওভারে শিবম দুবে ৮ বলে অপরাজিত রইলেন ২৬ রানে। নিশামের শেষ ওভারে এল ২৪। ভারত তুলল ২৫৫/৫। সেমিফাইনালে ভারত করেছিল ২৫৩/৭, আজ করল ২৫৫/৫। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এই রান বিশ্বরেকর্ড। ধন্যবাদ জানাতে হয় নিউজিল্যান্ডকেও, কারণ তাদের ৫ ক্যাচ মিস ছাড়া এই রান তোলা সম্ভব ছিল না ভারতের পক্ষে।
ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদসহ ভারত বুঝে গেছে, বিশ্বকাপ আসতে চলেছে। কিউয়িদের কোনওরকমে বেঁধে রাখলেই টানা দুইবার ও মোট তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে ভারত। সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন সমর্থকরা।