
কলকাতা : সদ্য়ই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতীয় দল। কোচ গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে হইচই চলছেই। তবে তার মধ্য়েই তিনি ফাঁস করলেন এক গোপন রহস্য। ২০২৪ আইপিএল চলাকালীন কেকেআরের মেন্টর ছিলেন গম্ভীর। সেই বছর আইপিএল চ্য়াম্পিয়ন হয়েছিল নাইটরা। দেশের হয়ে কোচিং করানোর আগে কেকেআরের মেন্টর ছিলেন গম্ভীর। সাদা বলে তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। তিনিই প্রথম ভারতীয় কোচ, যিনি পরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পেয়েছেন। গম্ভীর এমন এক বিরল ক্রিকেটার, যিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ – দুই ভূমিকায়ই বিশ্বকাপ জিতেছেন। এছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দারুন ফর্মে ভারত।
তখন মুম্বইয়ে ম্যাচ ছিল নাইটদের। তখনই জয় শাহ তাঁকে ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেন। গম্ভীর বলেন,”সকালে জয় ভাই আমাকে ফোন করে এই অফার দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তুমি এই অফার না করতে পারবে না।” গম্ভীর বললেন,”আমি প্রস্তাবটি শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। উনি যখন আমাকে হেড কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেন, আমি প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ ভারতের হেড কোচ হওয়া খুব দায়িত্বের কাজ। কতজন প্রাক্তন ক্রিকেটার আবার দেশের জার্সিতে কোচিং করানোর সুযোগ পান ? সেই দিক থেকে আমি ভাগ্য়বান। এরপরই আমি স্ত্রী নাতাশার সঙ্গে কথা বলি। জয় ভাইয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” টেস্টে গম্ভীরের ফল আশানুরূপ নয়। নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গিয়েছিল ভারত। তখনও জয় শাহী অভয় দিয়েছিলেন গম্ভীরকে। তিনি বলেন,”সেই সময় ওই হার হজম করা আমার কাছে কষ্টকর ছিল। তখন জয়ভাই-ই আমাকে অভয় দেন। আমাকে বিমানবন্দরে ফোন করেছিলেন। তাঁর কথায় আমি যথেষ্ট মানসিকভাবে বল ফিরে পাই।”
নিউজিল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত করেছিল আড়াইশোরও বেশি। এই নিয়ে বিরোধীদের মত, ভারত সুবিধামতো পিচ পেয়েছে। এই নিয়ে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”ভারতীয় দল এতটাই শক্তিশালী যে তাদের সুবিধামতো পিচ বানানোর প্রয়োজন পড়ে না। পিচ নিয়ে বিতর্ক তৈরী করা ও নজর কাড়ার জন্যই সমালোচনা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই কে গম্ভীর জানিয়েছেন,”আমরা এতটাই ভাল দল, যে আমাদের এসব নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়ছে না।” গম্ভীর পিচ নিয়ে বিতর্ক উঠে আসায় নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তুলনা টেনে বলেছেন,”ওদের মাঠেও আমরা বড় রান করেছি। কিছু মানুষ বিতর্কই চায়। সবই টিআরপির খেলা।” তাঁর কথায়, পিচ আইসিসি বানায়। বিসিসিআই না। আমরা সব পিচেই ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলেছি।” টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যের পর লাল বলে ফোকাস গম্ভীরের। তিনি বলেন,”আমরা এখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ২০২৭ ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্য়াম্পিয়নশিপের জন্য দলগঠন ও যোগ্যতা অর্জন। আশা করি আমরা ফাইনাল খেলব। এখনো আমাদের ৯টা টেস্ট বাকি ও আমার ফুল ফোকাস সেই দিকেই।”
লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভালবাসার কথা বললেন গম্ভীর। তাঁর কথায়,”আমি নিজে প্রথাগত ক্রিকেটেই বিশ্বাস করি। আমার মতে, টেস্ট ক্রিকেটেই চরিত্র গঠন হয়। এখানেই এক ইনিংসে ২০০ বা ৩০০ করা যায়। যেটা অন্য় কোথাও করা একটু চাপের।” টি-টোয়েন্টি হোক বা ওডিআই, গম্ভীরের কাছে পছন্দের বরাবরই টেস্ট ক্রিকেট, নিজের বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রমাণ করলেন ভারতীয় ক্রিকেটের হেডস্যার।