
কলকাতা: গত কয়েকটা দিন রোলার কোস্টারের মতো কেটেছে ভারতীয় অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (Ravichandran Ashwin)। ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো ফর্ম্যাটে ৫০০ উইকেট এবং ১০০টি ম্যাচ— টেস্ট কেরিয়ারের জোড়া মাইলস্টোন কয়েকদিন আগেই স্পর্শ করেছেন অশ্বিন। কিন্তু এখনও তিনি ভুলতে পারছেন না টেস্টে তাঁর ৫০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছনোর পর মায়ের সেই অসুস্থতার সময়কার কথা। এ বার অশ্বিন জানালেন ওই কঠিন সময়ে কী ভাবে পাশে ছিলেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও টিমের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়।
বেন স্টোকসের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজে সর্বাধিক উইকেট নিয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৫টি টেস্টে ১০টি ইনিংসে মোট ২৬টি উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন। টিম ইন্ডিয়ার সিনিয়র তারকা ক্রিকেটার রাজকোট টেস্টের মাঝপথে দল ছেড়ে চেন্নাইয়ে চলে গিয়েছিলেন। অশ্বিনের মা হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। এরপর চিকিৎসকের পক্ষ থেকে অশ্বিনের স্ত্রী প্রীতি নারায়ণনকে জানানো হয় ভারতীয় ক্রিকেটারকে যেন সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে অশ্বিনকে চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি ভিডিয়োতে ইউটিউবে অশ্বিন বলেছেন, ‘আমার ৫০০তন টেস্ট উইকেট হওয়ার পর আমি আমার মা-বাবা ও স্ত্রীর কাছ থেকে একটি ফোন পাওয়ার অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সন্ধে ৭টা বেজে যাওয়ার পরও কোনও ফোন না আসায় আমি অবাক হয়েছিলাম। যে ওরা কেন ফোন করেনি। তারপর ভেবেছিলাম হয়তো ওরা ইন্টারভিউ দিচ্ছে কিংবা আমার ৫০০ উইকেটের জন্য শুভেচ্ছাবার্তার প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। এরপর সন্ধে ৭টার দিকে স্নান করতে যাওয়ার আগে আমি স্ত্রীকে ফোন করি। আমার মা-বাবা ফোন ধরেনি। স্ত্রীর গলার স্বর শুনে বুঝতে পারি নিশ্চিত কিছু হয়েছে। এরপর আমার স্ত্রী বলে দল ছেড়ে বাড়ি আসতে। ও জানায় আমার মায়ের হঠাৎ মাথা যন্ত্রণা হয়। তারপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।’
স্ত্রী প্রীতির মুখে মায়ের অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা শুনে কেঁদে ফেলেছিলেন অশ্বিন। বুঝে উঠতে পারছিলেন না কী করবেন। সেই সময় রোহিত ও দ্রাবিড় তাঁর কাছে আসেন। জানান তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে। অশ্বিন বলেন, “ওই সময় আমি বিরাট অবাক হয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত। রুমে একা বসে কাঁদছিলাম। কয়েক মিনিট পর আমার স্ত্রী টিমের ফিজিয়োকে ফোন করে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। তারপর আমি ভাবতে থাকি আমাকে একাদশে রাখা হয়েছে, যদি আমি বাড়ি চলে যাই টিমের একজন বোলার কমে যাবে। ১০জন হয়ে যাবে। আবার তখন মনে পড়ে মায়ের কথা। ঠিক করি বাড়ি যাব। এরপর বিমানের খোঁজ শুরু করি। কিন্তু রাজকোট থেকে চেন্নাই যাওয়ার বিমান পাচ্ছিলাম না। ঠিক সেই সময় রোহিত আর রাহুল ভাই আমার রুমে আসে। রোহিত দেখে আমি বসে বসে ভাবছি কী করব। ও বলে কী ভাবছ বসে বসে? ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি যাও।’ ও জানায় আমার জন্য চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে।”
Ravichandran Ashwin sharing a touching story about Rohit helping him to get back to Chennai to see his family during tough situation.
– Rohit, an unbelievable human being 🫡pic.twitter.com/ziYsuQU4DX
— Johns. (@CricCrazyJohns) March 12, 2024
রোহিতের সেই মনোভাব অশ্বিনকে চমকে দিয়েছিল। অশ্বিনের সঙ্গে টিমের ফিজিয়ো কমলেশকেও পাঠান রোহিত। ভারত অধিনায়কের এই মনোভাব অশ্বিনকে আপ্লুত করেছিল। এমন নেতা পাওয়া যে ভাগ্যের সেটাও বলেছেন অশ্বিন।